পরিবারের দাবি‘হাসপাতাল থেকে জিসানের সহযোগীকে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাব’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:০৭, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪৬, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

হাসপাতালে মাজহারুল ইসলাম ওরফে শাকিলশীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সহযোগী মাজহারুল ইসলাম ওরফে শাকিলকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় তার পরিবার শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করে। হাসপাতাল থেকে তাকে র‌্যাবের গাড়িতে করে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলেও তাদের অভিযোগ। হাসপাতাল থেকে নিখোঁজের ‍দুদিন পর শাকিলকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ বিষয়ে র‌্যাব আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনও করেছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাকিলের পরিবার অভিযোগ করে, বিএসএমএমইউ থেকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাকিলকে ধরে নিয়ে যান র‌্যাব সদস্যরা। অথচ আজ দুপুরে তাকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক দেখানো হয়েছে।

এ ঘটনায় শাকিলে চাচাতো ভাই ফাহিম মাহমুদ শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি বলেন, ‘শাকিলের হার্টের সমস্যা রয়েছে এবং ব্লাড প্রেশারও বেশি। মাথা ঘুরে পড়ে গেলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রথমে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে নেওয়া হয় বিএসএমএমইউতে। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাকিল ও তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা শাওনকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায়। এরপর আমরা হাসপাতালের কোনও সহযোগিতা না পেয়ে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করি। জিডি নম্বর-১৪৮০। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শাকিলকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছে, কারা নিয়ে গেছে, তখন জানতে পারিনি। আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার কথা ছিল আমাদের। অথচ এর আগেই র‌্যাব গিয়ে হাসপাতালের চেয়ারম্যানের রুমের যে পিসিতে (কম্পিউটার) সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মজুত থাকে, সেই পিসিটি নিয়ে গেছে। পুলিশ গিয়ে সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ পায়নি।’

‘আজ জানতে পেরেছি যে, শাকিলকে র‌্যাবের গাড়ি এসে নিয়ে চলে গেছে। এখন র‌্যাব দাবি করছে, শাকিলকে গতকাল (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আটক করেছে তারা।’-যোগ করেন ফাহিম মাহমুদ

তিনি আরও বলেন, ‘শাকিল একজন হার্টের রোগী, বিএসএমএমইউ এর চতুর্থ তলায় কার্ডিওলোজি বিভাগের ডিইউএফ-১৩ নম্বর বেডে তিনি ভর্তি ছিলেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, হার্টের রোগী শাকিল কী করে হাসপাতাল থেকে গিয়ে মোহাম্মদপুরে অস্ত্রসহ ধরা পড়ে? পিজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে গত দুদিন ধরে আমরা এ ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছি,  কিন্তু পাইনি। পুলিশ পর্যন্ত পায়নি। উনারা (র‌্যাব) পিসিসহ নিয়ে গেছে।’ আমাদের দায়ের করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা যিনি ছিলেন, তাকে পাঠাতে পাঠাতে এ দিক দিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ সংরক্ষণের পিসিটি র‌্যাব-২ এর একজন নিয়ে চলে গেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আটক শাকিল শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অন্যতম সহযোগী (ডানহাত) বলে দাবি করছে র‌্যাব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাকিলের চাচাতো ভাই ফাহিম মাহমুদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কিছুই বলতে পারি না।’

শাকিলকে আটক করে র‌্যাববঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কার্ডিওলজি বিভাগ থেকে মাজহারুল ইসলাম নামে একজন রোগী রাতে চলে যায়। ওয়ার্ডে কোনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য- র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার বা কোনও সন্ত্রাসী সেখানে যায়নি। সে নিজে নিজে চলে যায়। তাকে তুলে নেয়নি কেউ। সে রাতে ওয়াস রুমে যায়, এরপর আর ফেরেনি। নিজে চলে যায়। আমাদের হাসপাতালের সব জায়াগায় সিসি ক্যামেরা নেই। আমরা অফিসিয়ালি তাকে অনুপস্থিত দেখিয়েছি। আমাদের আর কিছু করার নেই।’

শাহবাগ থানায় করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জিডির পর আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ওয়ার্ডের অন্য রোগীদের সঙ্গে কথা বলছি।  রোগীরা বলছে, তারা কেউ কিছু জানে না। আমি হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করার জন্য আবেদন করেছি। রবিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফুটেজ দেবে বলে আমাকে জানিয়েছে। মাজহারুল ইসলামের পরিবারকে আমি খবর জানাতে বলেছিলাম। মোহাম্মদপুর থানাতে খোঁজ নিতে বলেছিলাম তাদের। তবে তারা আমাকে কিছুই জানায়নি।’

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টা ১০ মিনিটে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শাকিলকে (৩৫) আটক করে বলে জানায় র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলেও র‌্যাব দাবি করে। এরপর বিকালে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম কাওরান বাজারে বাহিনীর মিডিয়া সেন্টারে তাকে গ্রেফতারের বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরে শাকিল রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতালে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। তবে সে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শাকিল এ বছরের জানুয়ারিতে দুবাই থেকে বাংলাদেশে আসেন। তার দেশে আসার উদ্দেশ্য ছিল, শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের নির্দেশ ও সহযোগিতায় বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা।  ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেতৃত্ব নেওয়া।’

আরও পড়ুন...
শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সহযোগী আটক

ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে রাজত্ব করতে দেশে ফেরে শাকিল

 

/এসজেএ/এআরআর/এনএল/আইএ/

লাইভ

টপ