‘অনুশীলন বই বন্ধ করলে দ্বিধায় পড়বে শিক্ষার্থীরা’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:০৪, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৯, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

নোট ও গাইড বই বন্ধের সিদ্ধান্ত সুচিন্তিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ কায়কোবাদ। তিনি বলেন, ‌‘ব‌ছরের পর বছর শিক্ষার্থীরা অনুশীলন বই পড়ে আসছে। হঠাৎ বন্ধ করে দিলে তারা দ্বিধায় পড়বে। এক্ষেত্রে আমাদের চমৎকার পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে হবে।’

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘শিক্ষা আইনের খসড়া বনাম অনুশীলন বই’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এসব কথা বলেন।  

অধ্যাপক কায়কোবাদ
মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘শিক্ষা নিয়ে আমাদের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। এর আগে শুনেছিলাম যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা নিজেদের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন। পরে সম্পূর্ণ বিপরীত একটি সিদ্ধান্ত এলো, বলা হলো শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে পারবেন না। এগুলো থেকে আমি বলতে পারি, আমাদের সিদ্ধান্তগুলো সুচিন্তিত নয়। সুতরাং নোট বই নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তাও আমার কাছে এমনই লাগছে।’

নতুন নতুন পদ্ধতি আমাদের জনগোষ্ঠিকে বিভ্রান্ত করছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যখন এসএসসি পরীক্ষা হয়, তখন সারা দেশ এতে সম্পৃক্ত হয়। এত বড় জনগোষ্ঠীকে নতুন নতুন পদ্ধতির কথা বলে বিভ্রান্ত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতদিন শিক্ষার্থীরা অনুশীলন বই পড়ে আসছে, এখন যদি হঠাৎ করে বলা হয় বই থাকবে না, তাহলে অবশ্যই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হবে। আমাদের চমৎকার পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়ে গেল, এখনও আমরা মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক তৈরি করতে পারলাম না। এর থেকে বুঝতে হবে আসলে আমাদের শিক্ষার প্রতি কোনও অঙ্গীকার নেই।’

রেবেকা সুলতানাতেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘অনুশীলন বইয়ের সঙ্গে নোট বইয়ের অনেক পার্থক্য। নোট বইয়ে প্রশ্নের উত্তরের নমুনা দেওয়া থাকে। অনুশীলন বই হলো একজন শিক্ষকের পাশাপাশি আরেকজন শিক্ষক বই তৈরি করেছেন। কলেজে থাকাকালে আমরাও এমন বই পড়েছি। লাইব্রেরিতে একটি বিষয়ের পাঁচটি বই থাকবে। যে শিক্ষার্থী ক্লাসে বুঝতে না পারে, সে লাইব্রেরিতে গিয়ে বইয়ের সাহায্য নেবে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সাহায্য নেবে, শিক্ষকরা সাহায্য করবে। নোট ও গাইড বই যদি স্বল্প পরিসরে থাকতো, তাহলে এটি নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন উঠতো না। কিন্তু এটি দিয়ে যখন বাণিজ্য হয়ে যাচ্ছে, তখন কিন্তু নিষিদ্ধের প্রশ্ন চলে আসছে। তবে অনুশীলন বই যেকোনও শিক্ষক লিখতে পারেন, এর প্রয়োজন আছে।’

কামরুল হাসান শায়কবাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহ-সভাপতি কামরুল হাসান শায়ক বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় এক্সামের জন্য আলাদা বাণিজ্যিক বই আছে। শিক্ষার দিক দিয়ে এগিয়ে যেসব দেশ, তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অন্যতম। অস্ট্রেলিয়ায় ক্যামব্রিজ একটি স্টেটের জন্য আলাদা বই তৈরি করছে। একেক স্টেটের কারিকুলাম একেক রকম। ভিন্ন ভিন্ন কারিকুলামের জন্য ভিন্ন বই তৈরি হচ্ছে। সেখানে শুধু ক্যামব্রিজ না, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আছে। এগুলো সব সহায়ক বই তৈরি করে। এমনকি কলকাতাতেও বই লিখছেন অনেকে। তাদেরও সৃজনশীল পদ্ধতি, কিন্তু কোনও আইনি প্রতিবন্ধকতা সেখানে নেই। পৃথিবীর কোথাও এই আইনটি নেই।’

মোস্তফা মল্লিকঅনুশীলন বই থাকলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি মোস্তফা মল্লিক। তিনি বলেন, ‘নোট বা গাইড বইকে আমি সমর্থন করছি না। আমি বলছি অনুশীলন বইয়ের কথা। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সদস্যদের জিজ্ঞেস করেছিলাম– আপনাদের গাইড বইয়ের লেখক কারা? তারা জানিয়েছেন, আমরা গাইড বই প্রকাশ করি না। তাদের দাবি তারা অনুশীলন বই বের করেন।’

মোস্তফা মল্লিক আরও বলেন, ‘আমি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের একটি বই পেয়েছি। বইটির নাম পদার্থ বিজ্ঞানের প্রথম পাঠ। তিনি বইটির সূচনায় স্পষ্ট করে লিখেছেন যে- পদার্থ বিজ্ঞানের মূল যে পাঠ্যবই সেটার থেকে আরও সহজ করে লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তার চিন্তা ভাবনাকে বাক্সবন্দি করে রেখেছেন, শুধু পাঠ্যবইয়ে যা আছে সেটাকেই সহজ করে লিখেছেন। বর্তমান সংজ্ঞা অনুযায়ী এটা কিন্তু সম্ভব না। কিন্তু স্যারতো এই কাজ শিক্ষার্থীদের জন্য সহজগম্য হওয়ার জন্যই করেছেন। তার মানে আমরা যদি অনুশীলন বই করি সেটা মনে হয় করা যেতে পারে।’

মাহমুদুল হকমাহমুদুল হকের সঞ্চালনায় রাজধানীর পান্থপথের বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে বৈঠকি অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে তা লাইভ দেখানো হয়।

/এসও/টিটি/

লাইভ

টপ