রিজেন্ট এয়ারওয়েজের সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ২০:৩৯, মার্চ ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩২, মার্চ ২২, ২০২০

রিজেন্ট এয়ারওয়েজ

সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। এয়ারলাইন্সটির কর্মীদের তিন মাসের বিনাবেতনে ছুটির চিঠি দেওয়া হয়েছে। দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়ায় এয়ারলাইন্সটি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বকেয়া পরিশোধ করতে পারছে না। শুধু বেবিচকের বিভিন্ন ফি বাবদ ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এয়ারলাইন্সটির বকেয়া ২৩৬ কোটি টাকা।

যদিও এয়ারলাইন্সটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে তাদের এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিন মাস পর আবার ফ্লাইট চালু হবে। রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে আমরা আন্তর্জাতিক যেসব রুটে ফ্লাইট চালাতাম তা একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। আর এসব রুট কবে চালু হবে তারও নিশ্চয়তা নেই। যাত্রীদের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক  রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৩ মাসের জন্য ফ্লাইট পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মীদেরও তিন মাসের লিভ উইথআউট পে’র বিষয়টি চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজ বর্তমানে দেশের ভেতর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং দেশের বাইরে কলকাতা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, মাসকাট ও দোহায় ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কাতার, মালয়েশিয়া, ওমান তাদের দেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ শনিবার রাত থেকে সিঙ্গাপুর ও ভারতসহ ১০টি দেশে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ  করে দেয়। এসব কারণে রিজেন্ট এয়ারওয়েজেরও ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনার প্রভাবে বিশ্বের বড় বড় এয়ারলাইন্সগুলো তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। আমার আন্তর্জাতিক যেসব রুটে ফ্লাইট চালাতাম তা একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। আর এসব রুট কবে চালু হবে তারও নিশ্চয়তা নেই। যাত্রীদের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক  রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৩ মাসের জন্য ফ্লাইট পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে  এ সময়টা আরও কমতেও পারে, আবার বেড়ে যেতেও পারে। কর্মীদেরও তিন মাসের লিভ উইথ আউট পে’র বিষয়টি চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। প্রতি মাসে আমাদের কর্মীদের বেতন বাবদ ৫ কোটি  টাকা খরচ হয়, উড়োজাহাজের লীজ বাবদ আরও ১০ কোটি টাকা খরচ হয়। অন্যান্য আরও খরচ তো আছেন। এ পরিস্থিতিতে আয় না থাকলে আমাদের পক্ষে  এসব খরচ চালানো সম্ভব না। এ জন্য যে উড়োজাহাজগুলো লিজ নেওয়া হয়েছে সেগুলোও ফেরত দেওয়া হবে।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর। এ বছরের জানুয়ারিতেই উড়োজাহাজ সংকটের কারণে দুটি রুটের ফ্লাইট সাময়িক স্থগিতসহ ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর ঘোষণা দেয় রিজেন্ট। ৮ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে দুঃখ প্রকাশ করে এয়ারলাইন্সটি। সে সময় সংবাদ সম্মেলনে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন, পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে উড়োজাহাজ সংগ্রহসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সে সময় আরও বলা হয়, চলতি বছরে রিজেন্ট আরও ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের ডেলিভারি পাওয়ার আশা করছে। নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে নিজস্ব নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্তমান গন্তব্যগুলোতে উড্ডয়ন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে রিজেন্টের।

/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ