সড়কে মানুষ কম, কৌশলী পুলিশ

Send
রাফসান জানি
প্রকাশিত : ২২:২৮, মার্চ ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৯, মার্চ ২৭, ২০২০

সরকারি বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধের দ্বিতীয় দিনে আজ (২৭ মার্চ) সড়কে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। শুক্রবার দুপুরে অনেকে মসজিদে গেলেও জুমার নামাজ আদায় শেষেই ঘরে ফেরেন তারা। কেউ যাতে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হয় তা নিশ্চিত করতে এদিন কৌশল পরিবর্তন করেছে পুলিশ। গতকাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে দরকার ছাড়া বাইরে বের হওয়া মানুষকে লাঠিপেটা করতে দেখা গেলেও দ্বিতীয় দিন ছিল ভিন্ন চিত্র।

রাজধানীর কাঁচাবাজারসহ যেসব স্থানে সচরাচর জনসমাগম হয়ে থাকে সেসব জায়গায় পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর টহল গাড়ির উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের বুঝিয়ে ঘরে ফেরাতে ব্যস্ত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এসব দিনে জরুরি প্রয়োজন (খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ কেনা, চিকিৎসা, মৃতদেহ সৎকার) ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে না যেতে জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে।

অযথা বাইরে আসা জনসাধারণকে ঘরে ফিরে যেতে শুক্রবার প্রতিটি থানা ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর মোবাইল পেট্রোলের পাশাপাশি ছিল ফুট পেট্রোল। এছাড়া গত ২৫ মার্চ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৮টি জোনে ওয়াটার ক্যানন দিয়ে রাস্তায় জীবাণুনাশক পানি ছিটানো হয়।

সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রোবাস্ট পেট্রোল দিয়েছে তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ, র‌্যাব-২ ও আর্মড ফোর্সের সদস্যরা। প্রায় ৪০টি গাড়ি নিয়ে এই সমন্বিত টহল দেওয়া হয়। শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে ডিএমপির তেজগাঁও উপ-কমিশনারের কার্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করেন তারা। শ্যামলী, আদাবর, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, মানিক মিয়া এভিনিউ, জাহাঙ্গীর গেট, মহাখালী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল, রামপুরা, মগবাজার, ফার্মগেট, পান্থপথ, গ্রিন রোড হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পেট্রোল শেষ হয়।

র‌্যাব-২-এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানির কমান্ডার মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কেন মানুষকে ঘরে থাকা প্রয়োজন, রোবাস্ট পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সেই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। র‌্যাবের এই কর্মকর্তার কথায়, ‘সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কেউ যাতে অযথা ঘোরাফেরার মাধ্যমে আইন ভঙ্গ না করে সেজন্য আমরা সতর্ক করে দিয়েছি।’

মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করার জন্য এই জয়েন্ট ডমিনেশন পেট্রোল দেওয়া হয়েছে বলে জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়কে আগের দিনের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি কম। তবে অলিগলিতে জনসমাগম হচ্ছে। কোনও কারণ ছাড়াই তারা বাইরে বেরিয়ে পড়ছে। থানাগুলোর পেট্রোল গাড়ি মাইকিং করে মানুষকে ঘরে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছে এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কেন ঘরে থাকা প্রয়োজন তা বোঝানো হয়েছে।’

গতকাল পুলিশের মারমুখী অবস্থান প্রসঙ্গে ডিএমপির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাবি, তারা অনেকটা বাধ্য হয়ে লাঠিপেটা করেছেন। রাস্তা থেকে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার পর পুলিশ চলে গেলে আবারও তারা রাস্তায় নেমেছিল। একাধিকবার বুঝিয়েও ঘরে ফেরানো যায়নি অনেককে। তখন কিছু কিছু জায়গায় লাঠিপেটার মতো ঘটনা দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য, দ্বিতীয় দিন মানুষ নিজেরাই ঘর থেকে কম বেরিয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অহেতুক রাস্তায় আসা লোকজনের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা।

প্রথম দিন মারমুখী অবস্থানের কারণে দ্বিতীয় দিন শুধু টহল কাজ এসেছে, এমনটাই মনে করেন মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকার শংকরে দায়িত্ব পালন করা একজন পুলিশ সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতকালের মতো লাঠিপেটার ভয়ে আজ মানুষ বের হয়েছে কম। মোড়ে মোড়ে আমাদের গাড়ি আছে দেখে অনেকেই বাইরে আসেনি।’

ডিএমপির উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ) মাসুদুর রহমান মনে করেন, জোর করে মানুষকে ঘরে আটকে রাখা যায় না। এক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সেভাবেই পুলিশ কাজ করছে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘জনগণ যাতে আপনাআপনি ঘরে থাকে সেজন্য তাদের সচেতন করতে প্রতিটি থানার পুলিশ মাইকিং করছে। যারা কোনও কারণ ছাড়া রাস্তায় বের হচ্ছে তাদের বুঝিয়ে ঘরে ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। নিজেদের সুরক্ষার জন্যই সবার ঘরে থাকার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।’

ছবি: ডিএমপি

 

/জেএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ