মধ্যপ্রাচ্যে সমস্যাগ্রস্ত বাংলাদেশিদের খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ০২:৩২, এপ্রিল ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩২, এপ্রিল ০২, ২০২০

প্রবাসী শ্রমিক

ইউরোপ ও আমেরিকার মতো তীব্র না হলেও করোনাভাইরাসের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে গেছে।  ফলে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের একটি অংশ যারা প্রাতিষ্ঠানিক কর্মে যোগ দেননি অর্থাৎ নিজেদের মতো করে কাজ করে থাকছেন (স্বাধীন ভিসায়) তারা সমস্যায় পড়েছে। বর্তমানে তাদের কোনও কাজ না থাকায় জীবনযাপন করা কষ্টকর হয়ে গেছে। তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ওইসব দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস। স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়ে তাদের সহায়তা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ওমানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ গোলাম সারওয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখানে সম্পূর্ণ লকডাউন না হলেও চলাচল অত্যন্ত সীমিত করা হয়েছে। খাবার এবং ওষুধের দোকান ছাড়া আর প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই বন্ধ। বর্তমানে দুই শতাধিক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে একজনও বাংলাদেশি নন। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মরত বাংলাদেশিদের একটি অংশ সমস্যায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দূতাবাসের উদ্যোগে এবং স্থানীয়ভাবে যারা ধনী বাংলাদেশি আছে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সহায়তা করা চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে আমরা ৫০০ জনের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছি। স্থানীয় আইন অনুযায়ী এখন জনসমাগম করে খাদ্য বিতরণের অবস্থা নেই এবং সেজন্য স্থানীয়দের সহায়তায় আমরা এটি করছি। ওমানে প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছে। ভিডিও বার্তা, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজসহ বিভিন্নভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান গোলাম সারওয়ার।

বাহরাইনে একই ধরনের চিত্রের কথা উল্লেখ করে সেখানে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম বলেন, এখানে বর্তমানে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ এবং এর ফলে যারা স্বাধীন ভিসা নিয়ে যারা এসেছে তারা অসুবিধায় পড়েছে। সমস্যাগ্রস্তদের ৩ ভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বৈধ তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যারা অবৈধ তাদেরকে দাতব্য যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু সহায়তা দেওয়া হবে। যারা এই দুই জায়গা থেকে সহায়তা পাবে না তাদের স্থানীয় প্রভাবশালী বাংলাদেশিদের সহায়তায় দূতাবাস সহায়তা দেবে। স্থানীয় আইন অনুযায়ী এখানে জমায়েতের সুযোগ নেই এবং সে কারণে খাদ্য সহায়তা ঘরে ঘরে অথবা একটি ছোট অঞ্চলের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হবে যেখান থেকে সমস্যাগ্রস্তরা খাদ্য বাস্কেট সংগ্রহ করে নেবেন। কোনও বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, একজন বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।

কাতারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন,  করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে  এখানে দুই বাংলাদেশি মারা গেছেন। কাতারে লকডাউন চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিদেশিসহ সবাইকে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করছে। এখানকার ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নতমানের। রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন,  আমরা এখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছি। একটি হটলাইন স্থাপন করা হয়েছে এবং যেকোনও সময়ে যে কেউ যোগাযোগ করতে পারে।

সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে তিন বাংলাদেশি মারা গেছেন জানিয়ে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ফয়সাল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখানে দেড় হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।  ১০ জন মারা গেছেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবে যোগাযোগ অত্যন্ত সীমিত এবং বিকাল তিনটা থেকে পরের দিন সকাল ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ।

ফয়সাল আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এখন মানুষ বিপদে আছে। এটি যখন চলে যাবে তখন কর্মরত বাংলাদেশিদের কাজের পরিবেশ যাতে বজায় থাকে সেজন্য আমরা এখানকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, এখন জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছু বন্ধ। সে কারণে আমাদের যোগাযোগও অত্যন্ত সীমিত। তবে আমরা আমাদের হোম ওয়ার্ক করে রাখছি এবং যখনই অফিস আদালত শুরু হবে আমরা কাজের পরিবেশ নিয়ে সৌদির সঙ্গে আলোচনায় বসবো।

/এমআর/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ