নারী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাটে ঢুকতে বাধা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:২০, এপ্রিল ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৪, এপ্রিল ০৫, ২০২০

দারুসসালাম থানামিরপুরের দারুসসালাম এলাকায় এক নারীকে তার মায়ের বাসায় ঢুকতে বাধা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা ইতির বিরুদ্ধে। গত ২ এপ্রিল দারুসসালাম টাওয়ার ভবনে এ ঘটনা ঘটে। কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী জান্নাত শাহরিয়া দারুসসালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পাশাপাশি তার স্বামী ও সন্তান ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় ঘটনাটি হাই কমিশনকেও লিখিতভাবে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।

জান্নাত শাহরিয়া জানান, গত ১৪ জানুয়ারি ১১ মাসের সন্তানকে নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর চলে যান শ্বশুড়বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে। সেখানে থাকার সময় সন্তানের হঠাৎ পেটে অসুখ হয়। অবস্থার অবনতি হলে সন্তানকে নিয়ে গত ২ এপ্রিল ঢাকায় ফেরেন তিনি। তার মায়ের বাসা দারুসসালাম টাওয়ারে। সেখানে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা কর্মী তাকে বাধা দেন। তবে বাধা উপেক্ষা করেই তিনি বাসায় প্রবেশ করেন। তবে বাসায় প্রবেশের পরপরই ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ চলে যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, দারুসসালাম টাওয়ারের ‘স্বঘোষিত’ সভাপতি ও ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা ইতির নির্দেশেই ফ্ল্যাটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

কারণ হিসেবে জান্নাত শাহরিয়া বলেন, রাজিয়া সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে এই ভবনে স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছেন। আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় কাউন্সিলর অফিস বসিয়েছেন। দিনভর নানা ধরনের লোকজন সেখানে আসা-যাওয়া করেন। এতে করোনার সময় ভবনের বাসিন্দাসহ সবাই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এসব বিষয়ে আমার মা প্রতিবাদ করে আসছেন। আমি আসার কারণে এই প্রতিবাদ আরও জোরালো হতে পারে, এই শঙ্কায় তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন, যাতে আমরা বাসায় না থাকতে পারি।

তবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা ইতি। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ আমাকে হয়রানি করার জন্য করা হচ্ছে। আমরা কোনও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিনি। তখন হয়তো বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। এখনতো ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎ আছে। তাদের সার্ভিস চার্জ বকেয়া আছে। কিন্তু এই কারণে এক মিনিটের জন্যও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি।

সার্ভিস চার্জ বকেয়া থাকার বিষয়ে জান্নাত শাহরিয়া বলেন, আমি দেশে থাকি না। আমার মা আর নানি থাকেন। কাউন্সিলর ও তার পরিবারের সদস্যরা ফ্ল্যাট মালিকদের জিম্মি করে রেখেছেন। কাউন্সিলর ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের নির্যাতন করছেন। থানায় এ নিয়ে আগেও জিডি করা হয়েছে। ভবনে নিজের লোকজনের নাম বসিয়ে সার্ভিস চার্জ নিচ্ছেন ওই নারী কাউন্সিলর। সঙ্গে দোতলার কাউন্সিলর অফিসের এক লাখ টাকার বেশি সার্ভিস চার্জও নিজেরা নিজেরা মাফ করিয়ে নিয়েছেন। ফ্ল্যাটের অন্যদের সম্মতি ছাড়াই এটা করছেন। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার মা প্রতিবাদ করে আসছেন। প্রতিবাদ স্বরূপ তিনি সার্ভিস চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। এসব অন্যায় বন্ধ হলে আমাদের সার্ভিস চার্জ দিতে বাধা নেই।

দারুসসালাম থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরিটি তদন্ত করছেন এসআই বায়জিদ মোল্লা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এই লকডাউন অবস্থায় বাসায় আসা ও আগে নানা বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এরপরতো থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।

 

/আরজে/টিটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ