ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার যে পথগুলোতে পুলিশের চেকপোস্ট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৫২, মে ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০২, মে ১৭, ২০২০

রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার যত পথ।** (গুগোল মানচিত্র অনুসরণে)

করোনা মহামারি প্রতিরোধে রাজধানীতে ঢোকা ও বের হওয়ার পথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ডিএমপি। রবিবার (১৭ মে) থেকেই এসব পথে চেকপোস্ট বসিয়ে জন ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ শুরু করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রবিবার (১৭ মে) থেকে ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বের হ ওয়ার পথে চেকপোস্ট বসিয়ে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ শুরু করা হয়েছে। যাতে কোনও ব্যক্তি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকা শহরে প্রবেশ এমনকি এ শহর থেকে বাইরে যেতে না পারেন।

মাসুদুর রহমান জানান, রাজধানীতে সড়কপথে প্রবেশ এবং বের হওয়ার প্রধান পথগুলো হচ্ছে যাত্রাবাড়ী, আব্দুল্লাহপুর, ৩০০ ফুট সড়ক, গাবতলী ও সদরঘাট। এছাড়াও কিছু ছোট ছোট সড়ক নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে যেগুলো দিয়ে কাছাকাছি শহরগুলো থেকে রাজধানীতে ঢোকা বা বের হওয়া যায়। সবগুলো পথেই পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা ও তল্লাশি জোরদার করেছে। তবে জরুরি সেবা ও পণ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত যানবাহনগুলো এই নিয়ন্ত্রণের আওতামুক্ত থাকবে।

এদিকে রবিবার ( ১৭ মে) আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত যেনো কোনোভাবেই ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে কেউ যেতে পারবেন না। একইভাবে প্রতিটি জেলা ও মহানগরীও জনস্বার্থে কঠোরভাবে এ বিষয়টি বাস্তবায়ন করবে।"

পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মানুষের মাথা সদৃশ রাজধানীর মানচিত্রে প্রবেশপথগুলো খুব সহজেই চেনা যায়। রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান পথ হিসেবে যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এবং দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের প্রধান পথ হচ্ছে আব্দুল্লাহপুর ও গাবতলী। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের যানবাহন চলাচলের মূল প্রবেশ পথ হচ্ছে যাত্রাবাড়ী ও এর কাছের সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড। আর উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের খুলনা বিভাগের গাড়ি যাতায়াত করে গাবতলী হয়ে। এছাড়াও আব্দুল্লাহপুরে একদিকে আশুলিয়া দিয়ে আসা উত্তরবঙ্গ বাইপাস সড়ক ও অন্যদিকে টঙ্গী দিয়ে আসা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এসে মিশেছে। মূলত রাজশাহী, রংপুর  ও খুলনা বিভাগগামী যানবাহনগুলো গাবতলী দিয়েই রাজধানীতে প্রবেশ করে থাকে। তবে এগুলোর মধ্যে যেসব যানবাহনের গন্তব্য মহাখালী বাসস্ট্যান্ড বা উত্তরা এলাকা কিংবা ঢাকা বাইপাস করে সায়দাবাস বাস টার্মিনাল বা চট্টগ্রাম বিভাগের কোনও এলাকা সেসব যানবাহন প্রবেশ করে থাকে আশুলিয়া বাইপাস সড়ক হয়ে। আর টঙ্গী হয়ে আব্দুল্লাহপুর ঢোকা সড়কটির নাম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হওয়ার কারণ, এই সড়ক দিয়েই ময়মনসিংহ বিভাগের সব যানবাহন চলাচল করে থাকে।  এছাড়াও পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ সিলেট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের নতুন পথ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বসুন্ধরার পাশের ৩০০ ফুট সড়ক। এইপথে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রভৃতি জেলাতেও সড়কপথে যাতায়াত হয়ে থাকে। আর জলপথে দক্ষিণাঞ্চল থেকে (বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, শরীয়তপুর প্রভৃতি জেলা) রাজধানীতে ঢুকতে হলে সদরঘাট হয়ে আসতে হবে। উত্তরবঙ্গ থেকে জলপথে প্রবেশ করতে হলে আসতে হয় তুরাগ নদ দিয়ে। তবে এই পথে যাত্রী পরিবহন তেমন নিয়মিত নয়। এছাড়াও কিছু ছোট ছোট সড়ক নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে যেগুলো দিয়ে কাছাকাছি শহরগুলো থেকে রাজধানীতে ঢোকা বা বের হওয়া যায়। যেমন: পোস্তগোলা, বাবুবাজার, বসিলা ব্রিজ। এছাড়াও সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভার ক্যান্টনমেন্টের পাশ ঘেঁষে একটি সড়ক বিরুলিয়া ব্রিজ হয়ে মিরপুর বেড়িবাঁধে এসে মিশেছে। ছোট সড়কগুলো দিয়ে যাত্রীবাহী বাস বা পণ্যবাহী ট্রাক তেমন চলাচল না করলেও এসব পথে হিউম্যান হলার বা অটোরিকশার চলাচল রয়েছে। 

**(মানচিত্রে প্রধান প্রবেশ পথগুলো বড় তীর চিহ্ন দিয়ে ও ছোট ছোট পথগুলো ছোট তীর চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়েছে।)

 

 

/জেইউ/টিএন/

লাইভ

টপ