করোনাকালে জবাবদিহিহীন স্বেচ্ছাচারের উদাহরণ সৃষ্টি হচ্ছে: টিআইবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:০৪, মে ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫২, মে ৩০, ২০২০

টিআইবিদেশে করোনা পরিস্থিতিতে জবাবদিহিহীন স্বেচ্ছাচারের একের পর এক উদাহরণ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও আইনের শাসনের স্বার্থে এখনই এই প্রবণতার লাগাম টেনে ধরার জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৩০ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন চিকিৎসাধীন ব্যক্তির প্রাণহানীর ঘটনার বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, যে আইসোলেশন ইউনিটে আগুন ধরেছিল সেখানে নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে দাহ্যপদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলোও ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। এছাড়া, নিহতরা সবাই লাইফ সাপোর্টে ছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন দাবি তাদের স্বজন ও বিশেষজ্ঞরা নাকচ করে দিয়েছেন। মালিকপক্ষের এমন ‘বিভ্রান্তিকর আচরণ’ এবং কোনও প্রকার দায় স্বীকারে ব্যর্থতা অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সম্প্রতি অবৈধ ঋণ পাইয়ে দিতে একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে গুলি করা, একাধিক কর্মকর্তাকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে মামলার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে। অথচ যাদের বিরুদ্ধে মামলা তারাই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ‘প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়’ ‘মিথ্যা রোগী সেজে’ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশ ছাড়লেন। ‘তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি’—এমন অজুহাতে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ থাকার পরও যেরকম অস্বাভাবিক দ্রুততায় পুরো আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে তাতে অবৈধ যোগসাজশের আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান বিজ্ঞপ্তিতে বলছেন, এরই মধ্যে আবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে যে, আসন্ন বাজেটে আবারও কালো টাকা সাদা করার সুযোগই কেবল দেওয়া হচ্ছে না, বরং পাচারকৃত অর্থসহ এর আওতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। দুর্নীতি দমনের ঘোষণা আর দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদকে বৈধতা দেওয়া শুধু পরস্পর বিরোধী নয়, বরং অনৈতিক, অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক। বছরের পর বছর এই সুবিধা দিয়ে দেশের অর্থনীতির কোনও দৃশ্যমান উপকার হয়নি, উল্লেখযোগ্য কোনও বিনিয়োগ হয়নি। অথচ অনৈতিকতা প্রশ্রয় পেয়েছে আর সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এমন বাস্তবতায় সরকারকে এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, দেশের সরকার এখনও মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষীদের হাতে জিম্মি হয়ে যায়নি।

/আরজে/এমআর/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ