এত প্রচারের পরেও ‘করোনা এমনেও আসবো অমনেও আসবো’

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১২:০০, জুন ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৩, জুন ০৩, ২০২০

পপপকরোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে, সতর্ক থাকতে দেওয়া সরকারি প্রচার-প্রচারণা এবং গণমাধ্যমের নানা সতর্কবার্তার পরেও সাধারণ মানুষ ‘স্বাভাবিক’ জীবন যাপন শুরু করেছেন। ৬৬ দিনের সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তার চায়ের দোকান, খাবারের দোকান, ফুটপাতে কোনও বাড়তি সতর্কতা ছাড়াই চলাচল করছেন তারা। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়লেও অসতর্কভাবে অনেকে বলছেন, ‘করোনা এমনেও আসবো অমনেও আসবো।’ মাস্ক ছাড়া, সামাজিক দূরত্ব না রেখে অসচেতনভাবে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে অনেককেই।

যদিও মঙ্গলবার (২ জুন) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৩৭ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭০৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই হাজার ৯১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৫২ হাজার ৪৪৫ জন করোনা শনাক্ত হলেন।

রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, শুক্রাবাদ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ জায়গায় ফুটপাতের দোকান খোলা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত লোকজনের চা পান করে হাত-পা এলিয়ে গল্প করার দৃশ্যও নজরে আসে। প্রায় দুই মাস বাসায় থেকে ‘হাফ’ ধরে যাওয়া এই নাগরিকেরা সাধারণ সতর্কতা হিসেবে মাস্কটাও পরতেও রাজি নন।

ককগত ২৮ মে সাধারণ ছুটি শেষের দিকে ঘোষণা দেওয়া হয় আর ছুটি বাড়ানো হবে না এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত আকারে চালু হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও চলবে। তবে শর্ত জুড়ে দেওয়া থাকে, রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের মতো চলাচল সীমিত থাকবে। হাটবাজার দোকানপাট বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

তবে পাড়া-মহল্লায় এসব নিয়ম কেউ মানছেন না। কোনও কোনও এলাকায় পুলিশ টহল দিলে দোকান বন্ধ হয় বটে, কিন্তু তা আবার খুলেও যায়। ফুটপাতে চা-সিগারেট নিয়ে বসেছেন এক নারী। তার ফ্লাস্কের চা খাওয়ার জন্য কয়েকটি রিকশা দাঁড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি অফিসের একজন কর্তাব্যক্তিও দাঁড়িয়েছেন। সতর্কতার কারণে বেঁধে দেওয়া তিন ফুট দূরত্ব তাদের মধ্যে নেই। কেন সামাজিক দূরত্ব মানছেন না? এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গত দুই মাসে যারা বাড়ি থেকে বের হননি তারাও শুনছি করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাহলে আর কী লাভ এসবে। করোনা এমনেও আসবো, ওমনেও আসবো।’

এদিকে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংশোধিত ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সংশোধিত স্বাস্থ্যবিধি সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধীনস্থ দফতর ও প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে যথাযথভাবে পালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অফিসে কিছু নিয়ম বেঁধে দেওয়া হলেও বাইরে তারা কতটা মানছেন? রাজধানীর পল্টনে এক সরকারি কর্মকর্তা চায়ের দোকানে চা পানরত অবস্থায় বলেন, ‘অনেকদিন পর রাস্তায় চা খেলাম। অনটাইম ইউজ কাপে খেয়েছি, সমস্যা হবে না।’

চা যিনি বানাচ্ছেন বা পান দিচ্ছেন তিনি কতটা সতর্ক এবং সেখান থেকে করোনা সংক্রমণ ঘটা সম্ভব কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এতো মেনে চলা কঠিন। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।’

ঙঙএ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছুটি তুলে দিলে এমন বিপর্যয় হবে এটা তো জানা কথা ছিল। ছুটির ভেতরেই মানুষ ঘরে ছিল না, আর ছুটি তুলে দিলে থাকবে কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে সবচেয়ে বড় ভয়ের কথা, লক্ষণ-উপসর্গবিহীন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কে করোনার জীবাণু বাহক (ক্যারিয়ার) আর কে বাহক নয় সেটা আমরা নিজেরাও জানি না। আমি যেমন ঝুঁকিতে আছি, তেমনি অন্যদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছি।’ এভাবে চলাফেরা করলে করোনার ঢেউ চলতেই থাকবে বলে জানান তিনি।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এমএএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ