করোনায় চলতি মাসে দেশে ব্যাপক মৃত্যুর আশঙ্কা গবেষকদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫৬, জুন ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০১, জুন ০৬, ২০২০

চলতি মাসে বাংলাদেশের করোনাভাইরাসের ব্যাপক মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। নেদারল্যান্ডসের গ্রনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটির এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের গবেষক ও লেখক অনুপম সৈকত শান্ত শনিবার (৬ জুন) এক গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য থেকে এসব কথা জানান। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদন তৈরিতে কাজ করেছেন অনুপম সৈকত শান্ত, জাওয়াদ মাহমুদ, ইফতেখায়রুল ইসলাম, মেহেদী হাসান তন্ময়, রুহুল আমিন, সোলায়মান সজিব, আবদুল মালেক স্বাধীন, আতিয়া ফেরদৌসী, সুমাইয়া নাসরিন, ফয়সাল আহাম্মদ খান, আফরিন লায়লা পারভিন।
গবেষণা প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুপত সৈকত দাবি করেন, করোনায় বিগত তিন মাসের মৃত্যুর পরিসংখ্যান গ্রাফ চিত্রে বসিয়ে দেখা গেছে বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এক্সপোনেনশিয়ালি (গুণোত্তর ধারায়) ওপরের দিকে এখন পর্যন্ত না বাড়লেও মে মাসের শেষ দিকে বক্ররেখার ওপরের দিকে বাঁক খাওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়। এই ঝোঁক বজায় থাকলে জুন মাসে ব্যাপক মৃত্যুর আশংকা রয়েছে।

অনুপম সৈকত জানান, দেশজুড়ে করোনা উপসর্গে মৃত্যুগুলোকে আলাদাভাবে সংকলিত করার উদ্দেশে বর্তমান গবেষণা কার্যক্রমটি হাতে নেওয়া হয়েছে। চলমান এই গবেষণায় গত ৮ মার্চ তারিখ থেকে বাংলাদেশের অনলাইন মিডিয়ায় আসা করোনা উপসর্গে মৃত্যুগুলো সংকলিত করা হচ্ছে। গবেষণা কার্যক্রমটি সম্পূর্ণরূপে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশের ও দেশের বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং গবেষক, ফ্রি-ল্যান্সার ও কম্পিউটার ডেভেলপারের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান প্রতিবেদনে ৮ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত মৃত্যু ঘটনাগুলোর নানাবিধ তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, সরকার ঘোষিত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে তুলনা, এবং সর্বোপরি মৃতদের চিকিৎসাপ্রাপ্তির পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, মিডিয়া ও সংগৃহীত খবর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৮ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সর্বমোট ৯০০টি ঘটনা সংকলিত হয়েছে। মোট ৮৯টি গণমাধ্যম থেকে ১ হাজার ২০৯ বার নিউজ পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ৮ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত করোনা উপসর্গে মারা গিয়েছেন ৯০০ জন। করোনা উপসর্গে মার্চ মাসে মারা গিয়েছেন ৭২ জন, এপ্রিল মাসে মারা গিয়েছেন ৩১৯ জন এবং মে মাসে মারা গিয়েছেন ৫০৯ জন। কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়ে মার্চ মাসে (১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত) মারা গিয়েছেন ৫ জন, এপ্রিল মাসে মারা গিয়েছেন ১৬৩ জন এবং মে মাসে মারা গিয়েছেন ৪৮২ জন। এই তথ্য গ্রাফচিত্রে বসিয়ে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা এক্সপোনেনশিয়ালি (গুণোত্তর ধারায়) উপরের দিকে এখন পর্যন্ত না বাড়লেও মে মাসের শেষ দিকে বক্ররেখার উপরের দিকে বাঁক খাওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়। এই ঝোঁক বজায় থাকলে জুন মাসে ব্যাপক মৃত্যুর আশংকা রয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৩৯০টি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে লক্ষণ উল্লেখ না করে মিডিয়ায় এসেছে মৃত ব্যক্তিরা করোনাভাইরাসের উপসর্গে ভুগছিলেন। বাকি ৫০৬ টি মৃত্যুর ঘটনায় ১৮টি লক্ষণের কথা মিডিয়ায় এসেছে। জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের বাইরেও যেসব লক্ষণ দেখা গিয়েছে সেগুলো হচ্ছে- সর্দি, ডায়রিয়া, গলা ব্যথা, ঠাণ্ডা, বুকে ব্যথা, বমি, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, গিঁটে ব্যথা, খিঁচুনি, পেটব্যথা, আমাশয়, উচ্চ রক্তচাপ ও কানে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্তপাত। ৫০৬ জনের মধ্যে ৪০৬ জনেরই জ্বর ছিল, ৩৭০ জনের ছিল শ্বাসকষ্ট, ২০৩ জনের ছিল কাশি ও ১৮৭ জনের সর্দি ছিল। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও সর্দি এই চার লক্ষণের কমপক্ষে দুটো লক্ষণ ছিল ৩৮২ জনের, কমপক্ষে তিনটি লক্ষণ ছিল ২১৪ জনের।

চিকিৎসা পরিস্থিতি বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাসায় মারা গিয়েছেন ২২৯ জন, হাসপাতালে পৌঁছার আগেই পথে মারা গিয়েছেন ৬৯ জন, হাসপাতালে ভর্তির পরে মারা গিয়েছেন ৫৪৪ জন। এছাড়া ২১ জন ব্যক্তি বাসার বাইরে রাস্তার ধারে, মসজিদে, বাজারে, উপকূলে, চা বাগানে, বাসার সামনে, হাসপাতালের বাইরে মরে পড়েছিল। কোনও কোনও ক্ষেত্রে লাশ লম্বা সময়ের জন্যে ওভাবেই পড়ে ছিল, কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত আশেপাশের কেউই ভয়ে লাশের ধারে কাছে যায়নি।

গবেষণা প্রতিবেদনে মৃত্যু এবং চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়, বাংলাদেশের করোনা উপসর্গের মৃত্যুগুলো শুধু নয়, কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া মৃত্যু, এমনকি এই সময়কালে করোনার বাইরেও নানা রোগে যে মৃত্যুগুলো হয়েছে কিংবা হচ্ছে, তার বড় অংশের কারণ  অপ্রতুল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।


/এসও/এমআর/

লাইভ

টপ