এমসিকিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশদের আইনজীবী হিসেবে গেজেট প্রকাশের দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:০৯, জুন ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৫, জুন ৩০, ২০২০

 

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তিতে এমসিকিউ (নৈর্ব্যক্তিক) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে কালবিলম্ব না করে আইনজীবী করে গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত শিক্ষনবিশ আইনজীবী সংগ্রাম পরিষদ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘আমরা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তকরণ এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়ার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০১৭ সালের ২১ জুলাই এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবী। দীর্ঘদিন ধরে বার কাউন্সিল কর্তৃক এনরোলমেন্ট পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ ও ২০১৯ সালে কোনও এনরোলমেন্ট পরীক্ষা না হওয়ায় শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পরীক্ষার দাবিতে আমরণ অনশন করি। ওই অনশনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী তালিকাভুক্তকরণ পরীক্ষার প্রিলিমিনারি সম্পন্ন হয়। ওই পরীক্ষায় ৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হই। এছাড়া,  ২০১৭ সালের পরীক্ষায় এমসিকিউ উত্তীর্ণ আরও  প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী পাস করে লিখিত পরীক্ষার আশায় বসে আছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘আমরা দেখেছি, দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই সর্বশেষ (২০১৭ সালে) এনরোলমেন্ট পরীক্ষা (এমসিকিউ, লিখিত ও ভাইভা) সম্পন্ন হতে সময় লেগেছে এক বছর পাঁচ মাস। সেক্ষেত্রে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা কবে শেষ হবে, সেই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউই বলতে পারে না। বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি এনরোলমেন্ট পরীক্ষাও সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি। যদি আগামী ১১ মাসের মধ্যে বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটি কোনও এনরোলমেন্ট পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে না পারে, তবে বর্তমান কমিটিই হবে বার কাউন্সিলের ইতিহাসে একমাত্র কমিটি, যে কমিটির অধীনে কোনও এনরোলমেন্ট পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে না।’

‘বর্তমান বার কাউন্সিলের কমিটিতে যেসব নির্বাচিত সদস্য আছেন, তাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির সফলতেই হচ্ছে সরকারের সফলতা, বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির ব্যর্থতাই হচ্ছে সরকারের ব্যর্থতা। তাই বিষয়টি অতীব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই।’

‘এখানে আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, বর্তমান করোনা ভাইরাস মহামারিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ও আইনজীবীদের জন্য পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ এবং সহায়তা প্রদান করেনি।’

তাই বর্তমান করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে লিখিত পরীক্ষা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে, তাদের লিখিত পরীক্ষা মওকুফ অথবা লিখিত ও ভাইভা উভয় পরীক্ষা মওকুফ করে ২০১৭ ও ২০২০ সালে এমসিকিউ উত্তীর্ণদের গেজেট প্রকাশ করে সনদ প্রদানের দাবি জানানো হয়।

পরিষদের আহ্বায়ক সুমনা আক্তার লিলি ও সদস্য সচিব আইনুল ইসলাম বিশালসহ সংগঠনের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে একই দাবিতে ২০১৭ ও ২০২০ সালে এমসিকিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের লিখিত বা লিখিত ও ভাইভা উভয় পরীক্ষা মওকুফ করে সনদের দাবিতে  দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

 

 

/বিআই/এপিএইচ/

লাইভ

টপ