দারুল ইহসানের সনদধারীদের এমপিওভুক্তির দাবিতে সচিবের কাছে চিঠি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৫০, জুলাই ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৯, জুলাই ০৯, ২০২০

দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়


দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারীদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে দ্বৈতনীতি পরিহারের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও সহকারী গ্রন্থগারিকরা। তাদের অভিযোগ এমপিও দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্বৈতনীতি গ্রহণ করেছে। করোনার এই মহাদুর্যোগের সময় এ নীতি পরিহার করে বঞ্চিতদের এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন তারা।

এমপিওভুক্তির দাবিতে বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার নবাবগঞ্জের বকসনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক মোহাম্মদ ছিয়ামুল হক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে ওই লিখিত আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল উচ্চ আদালত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিরুপণ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জের পর ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২০১৭ সালের ১৯ জুন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানায়, আগ্রহী শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা যেকোনও অংশীজন স্ব-ব্যাখায় পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যবেক্ষণ করে বন্ধ ঘোষিত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপত্রে গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর করতে পারেন। রায়ের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট জারি করা পরিপত্রে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত সনদে নিয়োগপ্রাপ্তদের এমপিওভুক্তির আদেশ দেয়। পরদিন কিছু গণমাধ্যমে বিরুপ মন্তব্য তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ২৯ আগস্ট আদেশটি স্থগিত করে।

কিন্তু শিক্ষক ও সহকারী গ্রন্থাগ্রারিকদের মধ্যে অনেককে বিশেষভাবে এমপিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমপিও চেয়ে যেসব শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন, তাদের মধ্যে ১৩ নম্বর বাদীকেও এমপিওভুক্ত করা হয়।

সচিবের কাছে পাঠানো আবেদনের সঙ্গে দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থগিতাদেশের আগে ও পরে দারুল ইহসানের সনদধারীদের এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (বর্তমান সিইসির আপন ছোট ভাই) এম নাসির উদ্দিনকে এমপিও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন এমপিও পাওয়ার পর বাংলা ট্রিবিউনকে ২০১৯ সালে জানিয়েছিলেন, ‘আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলাম। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমি ২০১৮ সালে এমপিওভুক্ত হয়েছি।’

এছাড়া সিলেটের আরও দুই জন শিক্ষককে আগের শিক্ষামন্ত্রীর সময় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের ৩০ মে সিলেটের রাজা কেসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারী মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতকে এমপিও দেওয়ার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সচিবের কাছে আবেদনকারী ছিয়ামুল হক জানান, গত বছর মে মাসের তালিকাভুক্ত শিক্ষকরা হয়েছেন— নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যের বাজার এন.এ.এম. পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন, ঢাকার দোহারের মুকসুদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল হাসান এবং গোপালগঞ্জের মকসুদপুরের বি.ইউ.কে ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ইমদাদ হক শেখ। আর ঢাকার দোহারের মুকসুদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক সাবিনা ইয়াসমিনকে মে মাস থেকে এমপিও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ছিয়ামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দারুল ইহসানের সনদ অর্জনকারীদের এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে চরম দ্বৈতনীতি অনুসরণ করে চলেছে কর্তৃপক্ষ। ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের অনেকেই এমপিওভুক্তির সুযোগ পেলেও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বেতন-ভাতার অভাবে মানবেতন জীবন যাপন করছেন কিছু শিক্ষক আর গ্রন্থাগারিক। ক্ষমতার জোর ও প্রভাবশালীদের আশীর্বাদপুষ্টরা অনায়াসে এমপিওভুক্ত হয়েই চলেছেন। উচ্চ আদালতের রায়ের পর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থগিতাদেশের পরও দ্বৈতনীতির ধারা অব্যাহত রয়েছে।’

এমপিও ছাড়ের দাবি জানিয়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীর চর্চা শিক্ষক শাহ আলম বলেন, ‘আমি সিইসির ভাই নই, প্রভাবশালী কারো আত্মীয়ও নই। নাপিতের ছেলে তাই টাকা খরচ করার ক্ষমতাও নেই। আর এ কারণে আমি এমপিওভুক্ত হতে পারিনি। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থগিতাদেশের পরও অনেকেই এমপিওভুক্ত হয়েছেন।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ সালের ২৯ আগস্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দ্বৈতনীতির অবসানের দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
এমপিওভুক্তিতে দ্বিমুখী নীতি


‘ঘুষ দিতে না পারায় এমপিওভুক্ত হতে পারিনি’

দারুল ইহসানের সনদে আবারও তিন শিক্ষকের এমপিও

দারুল ইহসানের সনদে এমপিও পেয়েছেন সিইসি’র ভাই

 

/এসএমএ/টিটি/

লাইভ

টপ