চিকিৎসা বর্জ্যের বিধিসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৩৫, জুলাই ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৬, জুলাই ১২, ২০২০

আইন নোটিশচিকিৎসা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা ২০০৮-এর বিধান পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন চেয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আনিকা আলী এবং মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার মো. হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক, বন ও পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের ইমেইলের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, ‘চিকিৎসা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা ২০০৮-এর বিধি-বিধান পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিবাদীদের অনুরোধ করা হয়েছে। ওই বিধিমালার বিধি-৩ অনুযায়ী দেশের প্রত্যেক বিভাগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালকের সভাপতিত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। ওই কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিতে পারবে। বিধি অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা বর্জ্য এমনভাবে ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাত করবে যাতে মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর কোনও বিরূপ প্রভাব না পড়ে। এছাড়া এই বিধির তফসিল ৬ অনুযায়ী চিকিৎসা বর্জ্য পরিশোধনের যে মানদণ্ড দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ন্যূনতম তিন বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

‘এছাড়াও বিধিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, চিকিৎসা বর্জ্য মজুত, পরিবহন, বিশোধন এবং বিনষ্ট করার আগেই তফসিল অনুযায়ী উৎপাদনের স্থানে পৃথক করে রাখতে হবে এবং বিধি-৪ অনুযায়ী ঢাকনাযুক্ত করতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, অশোধিত কোনও চিকিৎসা বর্জ্য ৪৮ ঘণ্টার বেশি মজুত করে রাখা যাবে না। কেবলমাত্র সুনির্দিষ্ট এবং সুরক্ষিত এলাকাগুলোয় এই চিকিৎসাবর্জ্য মজুত করা যাবে।’

নোটিশে দাবি করা হয়, ‘আমরা আশঙ্কা এবং গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, কর্তৃপক্ষ বিধিমালা অনুযায়ী তেমন কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে অন্যান্য বর্জ্যের মতো চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও অস্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশ দূষণ ঘটছে। বিশেষ করে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে এই আশঙ্কা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। সরকারিভাবে লাখ লাখ পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যক্তি উদ্যোগে কোটি কোটি মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে করোনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিপুল পরিমাণ অন্যান্য মেডিক্যাল সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব চিকিৎসা বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।’

প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা না গেলে জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনও ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

 

/বিআই/এমএএ/

লাইভ

টপ