আরিফ ও সাবরিনাসহ আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ ঘোষণা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৩৫, আগস্ট ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪১, আগস্ট ০৬, ২০২০

ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও আরিফুল হক চৌধুরীকরোনাভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতি করার অভিযোগে জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফুল হক চৌধুরী ও চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরীসহ আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিট ম্যাজিস্ট্রেট জুলফিকার হায়াদ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করেন। এরপর তিনি মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে বদলীর আদেশ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য এই দিন ধার্য করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী। চার্জশিটে সাবরিনা ও আরিফকে জালিয়াতির মূল হোতা উল্লেখ করা হয়। বাকিরা প্রতারণা ও জালিয়াতি করতে তাদের সহযোগিতা করেছে।
অভিযোগপত্রে অন্য আসামিরা হলো- আবু সাঈদ চৌধুরী, হিমু, তানজিলা, শফিকুল ইসলাম রোমিও, বিপুল ও জেবুন্নেসা। তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে হিমু, তানজিলা ও রোমিও দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আট জনের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণা করার প্রমাণ পেয়েছি। তাই আট জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন নিয়ে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা শুরু করেছিল জেকেজি হেলথ কেয়ার। কিন্তু করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রচুর চাহিদা থাকায় প্রতারণা শুরু করে জেকেজি সংশ্লিষ্টরা। অর্থ আদায়ের অনুমতি না থাকলেও অর্থের বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ করতো তারা। সেসব নমুনা কোনও ল্যাবে না পাঠিয়ে নিজেরাই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে পজিটিভ বা নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে দিতো। এছাড়া করোনাভাইরাসের নেগেটিভ সার্টিফিকেটের চাহিদা থাকায় অর্থের বিনিময়ে ভুয়া ল্যাব সার্টিফিকেট তৈরি করে দিতো।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সাবরিনা আরিফ চৌধুরী প্রথমে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করলেও জেকেজির জালিয়াতি শুরু করার বিষয়ে সবকিছু জানতেন। এমনকি জেকেজি হেলথ কেয়ার ছাড়ার আগ পর্যন্ত তিনি জালিয়াতির অর্থের ভাগও নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন জেকেজির সিইও আরিফসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলার তদন্তে জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনার নাম এলে গত ১২ জুলাই তাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসার পর স্বাস্থ্য অধিদফতর জেকেজির সঙ্গে করা তাদের চুক্তি বাতিল করে। অপরদিকে ডা. সাবরিনাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

/টিএইচ/এনএস/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ