করোনাকালে ওষুধ ও আর্থিক খাত তুলনামূলক ভালো অবস্থানে: জরিপ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১০:২১, আগস্ট ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৫, আগস্ট ০৯, ২০২০

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন সময়কালে দেশের সার্বিক ব্যবসা পরিস্থিতি খুবই খারাপ থাকলেও ওষুধ ও আর্থিক খাতের অবস্থা তুলনামূলক ভালো ছিল। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) এক ওয়েবেমিনারে এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সানেম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জরিপে বলা হয়, এপ্রিল-জুন ২০২০ এ সার্বিক ব্যবসা পরিস্থিতি খুবই খারাপ ছিল। সব খাতই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তৈরি পোশাক, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাইকারি ব্যবসা ও রেস্টুরেন্টের। ওষুধ ও আর্থিক খাতের অবস্থা তুলনামূলক ভালো ছিল।
এতে আরও বলা হয়, এপ্রিল-জুনের তুলনায় জুলাই-সেপ্টেম্বরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এই উন্নতি বিসিআই সূচকের সবকয়টি উপাদানে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু সার্বিক বিসিআই পরিমাপ খারাপ (৫১.০৬)। তৈরি পোশাক, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিসিআই ৫০ এর নীচে।
জরিপে টেক্সটাইল, ওষুধ, পাইকারি, রেস্টুরেন্ট, আইসিটি ও আর্থিক খাতে বিসিআই ৫০ এর ওপরে, যেটি ভালো পরিস্থিতি নির্দেশ করে বলে জানানো হয়। বলা হয়, এই খাতগুলো জুলাই-সেপ্টেম্বরে আরও ভালো পরিস্থিতি আশা করছে।
কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যবসায়ীদের আস্থা ও প্রত্যাশার ওপরে সানেম ও দা এশিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে প্রায় তিনশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
জরিপের ফলাফল উপস্থাপনে ড. সেলিম রায়হান প্রথমেই জরিপটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা দেন। জরিপ পদ্ধতিও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে তিসি জানান, ৮ বিভাগের ২২টি জেলার মোট ৩০৩টি ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এই সমীক্ষায় অংশ নিয়েছে। জুলাই এর ১৫ থেকে ২৩ তারিখের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদাধিকারীদের সাথে ফোনে আলাপের মাধ্যমে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে দেখা গেছে, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো, মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে।
ড. রায়হান বলেন, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৪% প্রতিষ্ঠান প্রণোদনা প্যাকেজ এর সাহায্য নিয়েছে। ৫৫% সাহায্য নেয় নি। অন্যদিকে ১১% প্রণোদনা প্যাকেজ সম্পর্কে জানেই না। যারা প্যাকেজের সহায়তা নেননি তাদের ৮৪% বলেছেন, তাদের খাতের জন্য কোনও বরাদ্দ ছিল না। ৮২% বলেছেন এই সাহায্য কোনও অনুদান না দেখে তারা তা নেননি। অন্যদিকে ৮০% দীর্ঘসূত্রিতাকে দায়ী করেছেন। ৭৮% ব্যাংকিং সেবার সমস্যার কথা বলেছেন, ৬৩% প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সাহায্য নেওয়ার প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। ৩৮% বলেছেন যে অর্থ বরাদ্দ হতো তাদের জন্য সেটি যথেষ্ট নয় এবং ২৩% বলেছেন তাদের কাছে ঘুষ চাওয়া হয়েছে।
প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে যারা সহায়তা নিয়েছেন তাদের মধ্যে ৪৭% জানিয়েছেন যে এই সহায়তা খুবই কার্যকরী। ৪০% জানিয়েছেন সহায়তা তাদের জন্য কার্যকরী ছিল। ৭% এই সহায়তা কার্যকরী বা অকার্যকরী কিছুই মনে করেন না। উত্তরদাতাদের ৪% এর কাছে এই সহায়তার তেমন কার্যকারিতা নেই এবং ২% কোনোই কার্যকারিতা পান নি।’
ওয়েবিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডক্টর মশিউর রহমান, এ.কে. খান টেলিকম লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম খান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মনজুর এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বক্তব্য দেন

/এসটিএস/এমআর/

লাইভ

টপ