কনস্টেবলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ হাইকোর্টের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৩১, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৩, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

সুপ্রিম কোর্ট

ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ধর্ষণের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  দিলেও সাত বছর কারাদণ্ড দেখিয়ে জাল নথি দাখিল করায় দুই কনস্টেবলসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি কবির বিশ্বাসের করা আপিল ও জামিন আবেদনের শুনানিতে রায়ের অনুলিপিতে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

কনস্টেবল বিশ্বজিৎ, কনস্টেবল খায়রুল আলম, ঝিনাইদহের উত্তরপাড়া গ্রামের তদবিরকারক চাঁন্দ আলী বিশ্বাস এবং ওকালতনামা দেওয়া কাদের আলীর বিরুদ্ধে এ মামলা করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবী শেখ আতিয়ার রহমানকে মামলার তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও মামলার তদন্তে যদি অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়, তবে তাকেও আসামি করা যাবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে জাল নথির ভিত্তিতে দেওয়া গত ১৬ সেপ্টেম্বরের আদেশ প্রত্যাহার করেছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

এর আগে একটি মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কবির বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর মামলা করেন বেলায়েত হোসেন। এ মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচার শেষে ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম ২০১৫ সালের ৮ জুলাই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে একমাত্র আসামি কবির বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ওই রায় ঘোষণার সময় আসামির বয়স ছিল ৩২ বছর। রায়ের পর কারাবন্দি কবির বিশ্বাস হাইকোর্টে আপিল করেন। আদালত তার আপিল গ্রহণ করেন। তখন তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হেলালউদ্দিন মোল্লা। ওই মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এ অবস্থায় কারাবন্দি কবির হোসেনের পক্ষে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে নতুন করে গত ১৫ সেপ্টেম্বর আপিল করা হয়। এবার আইনজীবী হিসেবে আপিলটি দাখিল করেন অ্যাডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমান। এই আপিলের সঙ্গে নিম্ন আদালতের রায়ে যে কপি দাখিল করা হয়, তাতে দেখা যায়— ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ আবু আহসান হাবীব ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর এক রায়ে কবির বিশ্বাসকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

জালিয়াতি করা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, কবির বিশ্বাসের বয়স ৬৫ বছর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বয়স বিবেচনায় তাকে সাজা কমিয়ে ৭ বছর দেওয়া হলো।

তাই আপিলের পর আদালত গত ১৬ সেপ্টেম্বর আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং আসামির সাজা কেন বাড়ানো হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণের পরও কেন সাজা কম দেওয়া হয়েছে, তার লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে বিচারক আবু আহসান হাবীবকে নির্দেশ দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী সাংবাদিকদের জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর আদেশের সময় আদালতের প্রশ্ন ছিল— নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণের পর আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা না দিয়ে সাজা কম দেওয়ার সুযোগ আছে কিনা? জবাবে বলেছিলাম, সে সুযোগ নেই। আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দিতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে খালাস দিতে হবে। এর বাইরে কিছু করার নেই বিচারকের।

পরবর্তীতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী ওই মামলার সব নথি জোগাড় করে জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এরপর আদালত নথি পর্যালোচনা শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিলেন।

 

/বিআই/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ