খালি পড়ে আছে ডিএনসিসির ‘পোস্টার স্ট্যান্ড’

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ১৫:০০, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৫, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০





ডিএনসিসির খালি পোস্টার স্ট্যান্ডনগরীর সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় যত্রতত্র স্থানে পোস্টার লাগানোকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় স্টিলের কাঠামোয় ‘পোস্টার স্ট্যান্ড’ বসিয়েছিলেন সাবেক মেয়র আনিসুল হক। নির্ধারিত এই স্ট্যান্ডে পোস্টার লাগাতে জনগণকে উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে সবার ব্যবহারে উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সেই সময় নির্ধারিত জায়গায় বাইরে পোস্টার লাগানোর কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও তাদের লাইসেন্স বাতিল করে ডিএনসিসি। কিন্তু মেয়রের মৃত্যুর পর তার এই উদ্যোগ থমকে দাড়ায়। বর্তমানে পোস্টার স্ট্যান্ডগুলো খালি পড়ে আছে। কোনও কোনও জায়গায় স্ট্যান্ডই হাওয়া হয়ে গেছে। তবে সাবেক মেয়রের এই উদ্যোগের বিষয়ে জানতেন না বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম। খোঁজ নিয়ে নতুনভাবে এই উদ্যোগকে আবার শুরু করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর গুলশান-১ পুলিশ প্লাজার বিপরীত পাশে পার্কের দেয়াল ঘেঁষে লাগানো রয়েছে ‘পোস্টার স্ট্যান্ড’। তার পাশে রয়েছে ডিএনসিসির সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস)। স্ট্যান্ডের গায়ে লেখা রয়েছে ‘পোস্টার লাগানোর নির্ধারিত স্থান’। পোস্টার লাগানোর নিয়মে বলা হয়েছে, ‘দড়িতে পোস্টার লাগিয়ে হুকের সঙ্গে দড়ি টাঙিয়ে দিতে হবে’। পোস্টারের মাপ হবে ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। সেখানে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত স্থান ব্যতীত পোস্টার লাগানো দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এই স্ট্যান্ডটি সম্পূর্ণ খালি পড়ে আছে। অথচ তার পাশের একটি দেয়ালে পোস্টার লাগানো রয়েছে। শুধু এখানে নয়, মিরপুর–২ নম্বরে পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে, মিরপুর-১ রাইনখোলা মোড়, আসাদগেটে ফুটপাতের স্ট্যান্ডগুলো একই অবস্থা। ডিএনসিসির নির্ধারিত এইসব স্ট্যান্ড খালি রেখে মানুষ পোস্টার লাগাচ্ছে যত্রতত্র স্থানে। আর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে টিঅ্যান্ডটি মাঠের পাশে পোস্টার স্ট্যান্ডটি নাই হয়ে গেছে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, মেয়র আনিসুল হকের সময়ে নির্ধারিত জায়গায় পোস্টার লাগানোর জন্য নগরীর ১৯টি জায়গায় ২০টি স্টিলের কাঠামোয় পোস্টার স্ট্যান্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কয়েটি জায়গায় স্ট্যান্ড নাই হয়ে গেছে।
টিঅ্যান্ডটি মাঠের পাশেই ডিএনসিসির সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস)। সেখানকার পরিচ্ছন্নকর্মী আবুল কাশেম বলেন, আমরা তো বলতে পারবো না কারা পোস্টার স্ট্যান্ড নিয়ে গেছে। ফুটপাতের দোকানিরা হয়তো বলতে পারবে। তারা এখানে সারাক্ষণ থাকে।
দোকানি আলম হোসেন বলেন, আমরা বলতে পারবো না কারা নিয়ে গেছে। সারাদিন দোকান নিয়ে ব্যস্ত থাকি। সিটি করপোরেশনের লোকজন ভালো বলতে পারবে।
ডিএনসিসির খালি পোস্টার স্ট্যান্ডনির্ধারিত জায়গায় পোস্টার না লাগিয়ে যত্রতত্র স্থানে লাগানোর জন্য সিটি করপোরেশন দায়ী বলেও মনে করেন নগরবাসীর কেউ কেউ। পুলিশ প্লাজার সামনে কথা হয় পথচারী এক বেসরকারি ব্যাংকের চাকরিজীবী জহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই যে স্ট্যান্ডের পাশেই সিটি করপোরেশনের ময়লার ঘর। স্বাভাবিকভাবে ময়লার দুর্গন্ধ কারণে মানুষ এই স্থানটা তাড়াহুড়া করে পার হয়। এখন কেউ যদি এখানে পোস্টার লাগায়, তাহলে কেউ কি দেখতে আসবে। মানুষ তো প্রচার-প্রচারণার উদ্দেশ্য পোস্টার লাগায় নাকি?
তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে এবং নির্ধারিত জায়গায় পোস্টার লাগাতে বাধ্য করা গেলে নগরীর পরিবেশেও যেমন উন্নতি হবে, তেমনি দূষণও কমবে বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, কোন কোন জায়গায় পোস্টার স্ট্যান্ড আছে, আমাকে এই রকম কয়েকটি ছবি পাঠিয়েন তো। কোথায়-কোথায় জায়গায় আছে, একটু দেখতে চাই। আমি ঠিক জানি না। আপনি ছবি দিলে আমরা জন্য খুব সুবিধা হবে কাজ করতে। তাহলে আমি কালই এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে পারবো। এইরকম জায়গা খুঁজছি। আছি চাচ্ছিলাম পোস্টার লাগানোর জন্য কিছু কিছু জায়গা ঠিক করে দেওয়ার জন্য।
তিনি আরও বলেন, আমি তো এখন অবৈধ সাইনবোর্ডে উচ্ছেদ শুরু করেছি। শুধু তাই নয়, রাস্তার মধ্যে যাদের নির্মাণ সামগ্রী থাকবে সেটা সঙ্গে সঙ্গে নিলাম হয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে সব কিছু শুরু করবো। আমরা এখন রাস্তার পাশের দেয়ালে যারা ঠিকানা লেখবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। তাছাড়া আমাদের লোকবল কম ও ম্যাজিস্ট্রেট নাই।

/এএইচআর/এমআর/

লাইভ

টপ