টিকিট পেয়ে বিজয়ের হাসি

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ২২:০৫, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৭, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

চেহারায় ক্লান্তির ছাপ থাকলেও ঠোঁটের কোনে এক চিলতে হাসি। কুমিল্লার ওমর ফারুকের এই হাসির কারণ ১০ দিনের ‘যুদ্ধ’ শেষে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটের টিকিট হাতে পেয়েছেন আজ। সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। ১০ মাস পর আবারও ফিরে যাবেন কর্মস্থলে। ওমর ফারুকের মতো আরও অনেকেরই আজ আনন্দের দিন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর টিকিট পেয়ে সৌদি প্রবাসীদের মুখে হাসি ফুটেছে। অন্যদিকে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ, তারা কেউই জানেন না তাদের ভাগ্যের কোনও পরিবর্তন হবে কিনা!

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রতিদিনের মতো টিকিট বিতরণের কাজ শুরু করে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ভিড় ছিল কম। যাদের ভিসার মেয়াদ আছে কেবল তারাই লাইনে দাঁড়িয়েছেন টিকিটের জন্য।

গত ১০ দিন ধরে টিকিটের অপেক্ষায় ছিলেন মো. আল আমিন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসে উঠেছেন আত্মীয়ের বাসায়। প্রতিদিন কাওরানবাজারে আসেন তিনি। টোকেনের আশায় আশায় দিন কেটেছে তার। ব্যর্থ হয়ে ফের বাড়ি ফিরে যান আল আমিন। একদিন পর আবারও ফিরে আসেন ঢাকায়। অবশেষে মিললো টোকেন। তবে কবে টিকিট পাবেন তার কোনও নিশ্চয়তা ছিল না। এরমধ্যে ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় আল আমিনের। সৌদি আরবে কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকামার মেয়াদ বাড়ান তিনি। অবশেষে বুধবার হাতে পেলেন সোনার হরিণ সৌদিগামী সেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট।

আল আমিন বলেন,  ‘দেশে এসে আট মাস আটকা পড়ে আছি। কোনও আয় নাই, কিন্তু খরচ তো বন্ধ নাই। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে চলেছি। দেশে এসে কাজও খুঁজেছি, কেউ দেয়নি। ৭ অক্টোবর ফিরে যাবো।’

লক্ষ্মীপুরের আলী হোসেন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের ওপর দিয়ে ধকল গেলো। এপ্রিলে আমার সৌদিতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে টিকিটের সময় ১৬ মার্চে নিয়ে আসি। কিন্তু আমার কপাল খারাপ, সেদিনই সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলো।’

তিনি বলেন, ‘ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছিলো, কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়াদ বাড়িয়েছি। গত কয়েকদিন ধরে টিকিটের জন্য রীতিমত যুদ্ধ হয়েছে। অবশেষে আজকে টিকিট পেয়েছি।’ 

এদিকে গত সাত দিনে সৌদি আরবে গেছেন তিন হাজার ৩১৮ জন প্রবাসী। সৌদি আরব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করলে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবাসীরা সে দেশে ফেরা শুরু করেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ‘বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১১টি ফ্লাইটে তিন হাজার ৩১৮ জন প্রবাসী সৌদি আরবে গেছেন।’

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সৌদি আরবে গেছেন ৯১০ জন। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদিতে ফ্লাইট শুরু করে বিমান। তবে দেশটির অনুমতি না পাওয়ায় এখনও শিডিউল বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করতে পারেনি বিমান। বাণিজ্যিক ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিটধারী যাত্রীদের বিশেষ ফ্লাইটে কোনও অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই সৌদি নিচ্ছে বিমান। ২৬ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে বিমান। এরমধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর ২৬০ জন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২৬৪ জন, ২৯ সেপ্টেম্বর ৩৮৬ জন প্রবাসী সৌদি আরবে গেছেন।

সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সে ২৪০৮ জন প্রবাসী সৌদি গিয়েছেন। এয়ারলাইন্সটি ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরু করেছে। ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স। এরমধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর ২৫০ জন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০৫ জন, ২৬ সেপ্টেম্বর দুটি ফ্লাইটে ৫১৩ জন, ২৭ সেপ্টেম্বর  দুটি ফ্লাইটে ৬৭৭ জন,  ২৮ সেপ্টেম্বর ৩৮৮ জন, ২৯ সেপ্টেম্বর ৩৭৫ জন প্রবাসী সৌদি আরবে গিয়েছেন।

ছবি: চৌধুরী আকবর হোসেন

/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ