করোনা আর বৃষ্টিতে পূজার আনন্দে ভাটা

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১৯:৫৬, অক্টোবর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৮, অক্টোবর ২৩, ২০২০

একদিকে করোনার সংক্রমণ,আর অন্যদিকে বৃষ্টি। এবার পূজা অর্চনাকারীদের জন্য পরিবেশটা বেশ প্রতিকূল। তারপরও  থেমে নেই মা দুর্গার ভক্তরা। অন্যান্যবারের মতো উৎসবে ভাটা দেখা গেলেও বৃষ্টি উপেক্ষা করে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অঞ্জলি দিতে পূজামণ্ডপে এসেছেন কেউ কেউ। যদিও করোনার কারণে এবছর  অঞ্জলি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে সরাসরি টেলিভিশনে ও ফেসবুকে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নগরীর কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।  এদিন মন্দিরে নবপত্রিকা প্রবেশ ও সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজা শেষে অঞ্জলি দেন ভক্তরা। এবার দেবী এসেছেন দোলায়, যাবেন হাতিতে চড়ে।

ভক্তদের বাসায় বসেই অঞ্জলি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। তাই মহাঅষ্টমীতেও ভক্তরা বাসায় বসেই অঞ্জলি দেবেন বলে জানায় পূজা উদযাপন পরিষদ।

বিকালে রাজধানীর কলাবাগান মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এর মাঝেই অনেক ভক্ত এসে অঞ্জলি দিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ সময় ভক্তদের ভিড় করতে দেখা যায়নি। ভিড় না করতে পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকেও নজরদারি রাখা হয়েছে। মণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতির সংখ্যাও ছিল অনেক কম।

কথা হয় গৃহবধূ সঞ্চিতা দেবীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘টেলিভিশন বা ফেসবুকের মাধ্যমে পূজা দেওয়া, আর সরাসরি মণ্ডপে এসে অঞ্জলি দেওয়ার মর্যাদা আলাদা। মা দুর্গাকে অঞ্জলি জানাতে মণ্ডপে এসেছি। আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন পুরো পৃথিবীকে করোনামুক্ত করে দেন।’

জানতে চাইলে ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অমল পোদ্দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা পূজা উদযাপন করছি। এবার কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন নেই। এর মধ্যই মায়ের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। বৃষ্টিটাও কিছুটা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।’

প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে নগরীর অন্যান্য মণ্ডপেও—ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, জয়কালী মন্দির, বরদেশ্বরী কালিমাতা মন্দির, রমনা কালীমন্দির, শ্যামবাজার শিবমন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির ও স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে।

চন্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। কাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) মহাঅষ্টমী পূজা। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে মহানবমী পূজা ও সোমবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গাপূজা।

পূর্বঘোষিত মহাসপ্তমীতে দুপুরে বিভিন্ন মণ্ডপে করোনা মুক্তি, দেশ-জাতি ও বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বেলা ১২টা এক মিনিটে অনুষ্ঠিত প্রার্থনা সভায় পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি বলেন, ‘অষ্টমী ও নবমী পূজার দিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি, শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির নামের ফেসবুক পেজ থেকে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকানুযায়ী আগামীকাল সকাল ৫টা ১৬ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদি বিহিত পূজা প্রশস্তা ও মহা অষ্টমীর ব্রতোবাস শুরু হবে। সকাল ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে ৭টা ২৩ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধি পূজা। মহাঅষ্টমীর মূল আকর্ষণ ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনসহ অন্যান্য স্থানে এবার কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।’

এবার সারা দেশে মোট ৩০ হাজার ২৩১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর পূজা হয়েছিল ৩১ হাজার ৩৯১টি স্থানে। এবার এক হাজার ১৮৫টি পূজা কম হচ্ছে। নেতারা মনে করেন, কোভিড পরিস্থিতির কারণে এবার পূজার সংখ্যা কমেছে।

/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ