বই মেলায় দর্শনার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চান প্রকাশকরা

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ১৩:০০, অক্টোবর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১১, অক্টোবর ৩১, ২০২০

করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় এবং আড্ডাবাজ লোকদের ভিড় কমাতে আগামী অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২১-এ দর্শনার্থীদের প্রবেশে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো। একইসঙ্গে করোনার আর্থিক ক্ষতি ‘কিছুটা’ পুষিয়ে নিতে আগামী বই মেলায় ন্যূনতম ভাড়ায় ইউনিট (স্টল) বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বাংলা একাডেমির কাছে আবেদন করেছেন তারা। শুধু তাই নয়, তালিকাভুক্ত ‘পেশাদার’ প্রকাশনী বাইরে ‘অপেশাদার’ প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে মেলায় ইউনিট বরাদ্দ না দেওয়ার দাবি তাদের।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৫ অক্টোবর করোনাকাল বিবেচনায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি যৌথভাবে বাংলা একাডেমির পরিচালকের কাছে ১২ দফা প্রস্তাবনা দেন। সেখানে তারা করোনাকাল বিবেচনায় ন্যূনতম ভাড়ায় স্টল বরাদ্দ, সমিতির সদস্য ব্যতীত অন্য কোনও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ না দেওয়া, বই মেলা আয়োজন কমিটিতে প্রকাশক সমিতির ৭ প্রতিনিধি রাখা, কোভিড-১৯-এর স্বাস্থ্যবিধি বিবেচনায় একাধিক সুদৃশ্য ও বড় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রাখা, মেলার প্রবেশপথে খাবারের দোকান না রাখা, একইরকম সাজসজ্জার স্টল তৈরি করা, প্রতিটি স্টলের চারদিক উন্মুক্ত এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে স্টল স্থাপন করা, ২০২০ সালের বই মেলায় নীতিমালা ভঙ্গকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়াসহ ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন। একইসঙ্গে লিখিত প্রস্তাবের বাইরে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় দর্শনার্থীদের প্রবেশে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা এবং মেলায় বিদেশি বই বিক্রিও বন্ধ চায় প্রকাশনী সংস্থা দুটি

প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি থেকে বাংলা একাডেমিকে ১২ দাবি সংবলিত চিঠি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে অন্য প্রকাশের মাজহারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনায় অন্য সেক্টরের মানুষ প্রণোদনা পেলেও প্রকাশরা কিছুই পায়নি। তাই আমরা একটা প্রণোদনার দাবি জানিয়েছি। সেটা হচ্ছে প্রণোদনার অংশ হিসেবে নামমাত্র ভাড়ায় প্রকাশকরা মেলায় অংশ নেবেন। আমাদের প্রণোদনা খুব বেশিও না। সেটা দেড় কোটি টাকার মতো হলেই হয়ে যাবে। যেটা প্রতি বছর মেলার স্টল ভাড়া থেকে আসে। করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই সেক্টরটা। কারণ, এই সময় তো মানুষ বই কেনেনি। মাঝখানে তো পুরো তিন মাস সবকিছুই বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, মেলায় দেখা যায় যে প্রকৃত প্রকাশকদের বাইরে অপেশাদার ও বাইরের বইয়ের প্রকাশকরা অংশ নেয়। এদের বাদ দিয়ে স্টল সংখ্যা কমিয়ে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলা করা যায় সেটাও দাবি জানিয়েছি আমরা। কারণ, পেশাদার প্রকাশকের সংখ্যা ২৫০-এর বেশি না। কিন্তু মেলায় অংশগ্রহণ করে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪শ’র মতো সংস্থা। তাহলে এরা কারা। দুটি প্রকাশক সমিতি আছে। এরা এই দুই সমিতির সদস্য না। এরা বেশিরভাগ নকল বই বিক্রি করে। তাই এদের বাদ দিতে না পারলে মেলার পরিসর ছোট করা যাবে না। অংশগ্রহণকারীর তালিকা ছোট করা না গেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলার আয়োজন করা কঠিন হবে।

আগামী প্রকাশনীর ওসমান গনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশি লেখক এবং প্রকাশকদের পৃষ্ঠপোষকতা করা। কিন্তু এখন মেলায় প্রায় ৫০ শতাংশ বই নকল এবং বাইরের বই বিক্রি হয়। সরাসরি বললে অনুমতি না নিয়ে কলকাতার বই বিক্রি হয়। শর্ত অনুযায়ী মেলায় অনুমতি নিলেও বাইরের বই বিক্রি করা যাবে না। কারণ, এখানে বলা আছে বাংলাদেশে প্রকাশিত এবং লেখকের বই বিক্রি হবে। তাই আগে এটাও বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মেলায় কিছু লোক প্রতিদিনই আসে আড্ডা মারতে। কিন্তু এবার করোনার বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানা জরুরি। ফলে মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য ফ্রি রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা দরকার। যাতে কেউ চাইলে মেলায় গিয়ে আড্ডা না মারতে পারে। যেমন আমাদের বাংলা একাডেমির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দর্শনার্থীদের ফ্রি রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বই মেলায় দর্শনার্থীদের ফ্রি রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা আছে।

সংহতির প্রকাশনীর দীপক দেব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনায় আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ন্যূনতম মূল্যে মেলার স্টল বরাদ্দের ফি নির্ধারণ করা উচিত। আর সেটা দুইভাগে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখার দাবি আমাদের। একটা অংশ মেলার শুরুতে আর বাকিটা মেলার শেষে নেবে বাংলা একাডেমি।

তিনি আরও বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে করোনায় যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা যায় তার জন্য মেলার দর্শনার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা করা দরকার। যাতে একজন দর্শনার্থী সপ্তাহে এক বা দুই দিন মেলায় যেতে পারবে। এতে মেলায় ভিড়ও কম, সব দর্শনার্থী মেলায় আসার সুযোগ পাবে এবং স্বাস্থ্যবিধিও মানা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনও আলোচনা হয়নি বলে জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাদের দাবিগুলো নিয়ে এখনও আমরা আলোচনা করি নাই। আলোচনার পরে বলতে পারবো কোন দাবি মানা যাবে আর কোন দাবি মানা যাবে না।’

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, করোনার আগে এবার বই মেলায় নতুন বইয়ের সংখ্যা কমতে পারে। কারণ, এবারের মেলায় বিক্রি কেমন হবে সেটা অনুমান করা সম্ভব নয়। করোনার কারণে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। তাই অনেক প্রকাশনী সংস্থা নবীন লেখকদের বই প্রকাশের ঝুঁকি নেবে না। প্রতিবছর খ্যাতিসম্পন্ন লেখকদের পাশাপাশি নবীন লেখকদের প্রচুর বই প্রকাশিত হতো। যেটা এবার সম্ভব নয়।

অন্য প্রকাশের মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে মেলায় ১০০ নতুন বই নিয়ে আসা। এরমধ্যে ৩০ শতাংশ বইয়ের কাজ শেষ হয়ে গেছে। বেশ কিছু বই ইতোমধ্যে প্রকাশও করে ফেলেছি।’

আগামী প্রকাশনীর ওসমান গনি বলেন, ‘এবার আমাদের প্রকাশনা থেকে ৪০ থেকে ৫০টির মতো নতুন বই প্রকাশিত হবে। করোনার কারণে চাইলেও বেশি বই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ