সফর অবস্থায় কি রোজা রাখা আবশ্যক

বেলায়েত হুসাইন
০৬ মার্চ ২০২৬, ১৩:২৮ আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৩:২৮

ইসলাম মানুষের স্বভাব ধর্ম। তার ওপর সাধ্যের বাইরে কোনও কিছুই চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কোনও ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেন না...।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬) এ বিষয়ের বাস্তব উদাহরণ হলো, সফরের অবস্থা। কেউ যদি সফরে বের হয়, তাহলে ইবাদতের ক্ষেত্রে তাকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইসলাম।

ইসলামে সফর গণ্য করা হয়, যখন কেউ ৪৮ মাইল (৭৭.২৩২ কিলোমিটার) রাস্তা অতিক্রম করে কোনও স্থানে যাওয়ার উদ্দেশে নিজ এলাকার লোকালয় থেকে বের হয়। এমন পরিস্থিতিতে মুসাফির ব্যক্তির জন্য নামাজ ও রোজায় শিথিলতা রয়েছে।

মুসাফিরের নামাজ

মুসাফিরের জন্য নামাজ সংক্ষিপ্ত করে পড়া আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রিয় বান্দাদের জন্য বিশেষ উপহার। তাই মুসাফিরের জন্য কর্তব্য হলো, সেই উপহার গ্রহণ করা। কসরের বিধান কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন তোমরা যমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের সালাত কসর করাতে কোনও দোষ নেই...।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০১)

মুসাফির ব্যক্তি সফর অবস্থায় চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ (জোহর, আসর ও ইশা) দুই রাকাত পড়বে। একে কসরের নামাজ বলে। তবে যদি মুক্তাদি হিসেবে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করে, তাহলে ইমামের অনুসরণে পূর্ণ নামাজ আদায় করতে হবে। আর মুসাফির অবস্থায় ইমামতি করলে কসরের ইমামতি-ই করবে এবং নামাজের শুরুতে বলে দেবে যে, আমি মুসাফির। সে দুই রাকাত পড়ে সালাম ফেরাবে, আর তার অনুসরণকারী মুক্তাদিরা সেখান থেকে দাঁড়িয়ে বাকি দুই রাকাত সম্পন্ন করবে।

এটা হলো পথে সফরে থাকাকালীন সময়ের নামাজের বিধান। আর গন্তব্য পৌঁছার পর যদি সেখানে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত থাকে, তাহলে এই দিনগুলোতে কসর পড়তে হবে। তবে, গন্তব্যস্থল নিজ বাড়ি হলে কিংবা ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি দিন থাকার নিয়ত করলে কসর পড়া যাবে না। বরং পূর্ণ নামাজ আদায় করতে হবে।

মুসাফিরের রোজা

রমজানে মুসাফির ব্যক্তির জন্যও রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে মুসাফিরের জন্য উত্তম হচ্ছে, যদি কষ্ট কম হয়, তাহলে রোজা পালন করা। আর এ অবস্থায় রোজা না রাখলে পরে তা কাজা করে নিতে হবে। (জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া ১/২০) এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘(রোজা) নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য, অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে পীড়িত কিংবা মুসাফির সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪)

কোনও মুসাফির যদি সফর অবস্থায় রোজা রাখতে না চায়, তাহলে সে যেন সেভাবেই দিন শুরু করে। রোজা রেখে যেন দিনের বেলায় কোনও কারণ ছাড়াই তা ভেঙে না ফেলে। কারণ, তার জন্য সফর অবস্থায় দিনের শুরু থেকেই রোজা না রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু যদি সফর অবস্থায় রোজা শুরু করে এবং বিনা কারণে আবার তা ভেঙেও ফেলে, এটি তার জন্য জায়েজ হবে না। তার এই রোজাটি পরে আদায় করে নিতে হবে। (ফাতহুল কাদীর: ২/২৮৪, সহিহ বুখারি: ১/২৬১)

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও মাদ্রাসাশিক্ষক

/আরকে/
সম্পর্কিত
শাওয়াল মাসের ৬ রোজায় পূর্ণ বছর রোজার সওয়াব
১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়
আত্মশুদ্ধির যাত্রার মহৎ সমাপনী
সর্বশেষ খবর
‘দোকানদাররা বলে দাম কমেছে, কিন্তু কীভাবে বা কতটুকু কমে আমরা বুঝতে পারি না’
‘দোকানদাররা বলে দাম কমেছে, কিন্তু কীভাবে বা কতটুকু কমে আমরা বুঝতে পারি না’
‘ঘুম ভাঙলো বিকট শব্দে, চোখ খুলেই দেখি পাশে চার লাশ’
‘ঘুম ভাঙলো বিকট শব্দে, চোখ খুলেই দেখি পাশে চার লাশ’
কারফিউয়ে শান্ত ফরাসি শহর, পুলিশের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা স্বীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
কারফিউয়ে শান্ত ফরাসি শহর, পুলিশের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা স্বীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
রাজধানীতে পাকিস্তানি নাগরিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীতে পাকিস্তানি নাগরিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: যা বললেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: যা বললেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির