আওয়ামী লীগ গত সাত বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, জোর করে ক্ষমতায় থেকে সরকার লুটপাট করছে। রোববার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, আজীবন ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগ নতুন নতুন আইন করছে, সংবিধান সংশোধন করছে। নির্বাচনের নামে তারা ভোট কেন্দ্র দখল করে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করছে। আর তাদের সহযোগিতা করছে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন।
আওয়ামী লীগকে মানুষ বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, তারা যত উন্নয়ন করে তার চেয়ে বেশি চুরি করে। আর মানুষ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে না বলেই ক্ষমতায় থেকে তারা নির্বাচন করতে চায়। এ সরকার উন্নয়নের নামে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করে। এসব প্রকল্প পাশের পর কাজ না করে বরাদ্দকৃত অর্থ নেতাকর্মীরা ভাগাভাগি করে নেয়।
শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে খালেদা জিয়া আরও বলেন, এ দেশের শ্রমিকরা আজ ভালো নেই। তাদের ওপর নানা নির্যাতন-অত্যাচার হচ্ছে। রানা প্লাজার শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে অনেক টাকা ওঠানো হয়েছে। কোথায় গেল সেই টাকা? শ্রমিকদের ভাগ্যে সেই টাকা গেল না কেন?
আওয়ামী লীগের এক নেতার দখল করা জায়গায় রানা প্লাজা গড়েছিলেন উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সেই রানা প্লাজা ধসে শত শত শ্রমিক মারা গেল। অনেকে আহত হয়েছে। এখনও অনেক শ্রমিকের খোঁজ পায়নি স্বজনরা। এই সরকার আহত-নিহতদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এই হচ্ছে অবৈধ সরকারের কার্যক্রম। রানা প্লাজার শ্রমিকদের জন্য অনেক টাকা ওঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা শ্রমিকরা পায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছে এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, টাকা পাচারের ঘটনায় জয়কে ভেতরে (কারাগার) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কারণ এগুলো জনগণের কষ্টের টাকা। তার (জয়) টাকা পাচার আড়াল করতেই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করছে সরকার। তাই জয়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ। জয়ের টাকা পাচারের কাগজ বাংলাদেশের মধ্যে শুধু নেই বিদেশেও আছে। জয়ের টাকা পাচারের কথা শফিক রেহমান তো প্রকাশ করেননি। তাহলে তার দোষ কোথায়? তাই অবিলম্বে শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদসহ সকল কারাবন্দিদের মুক্তির দাবি করছি।
সমাবেশের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া আরও বলেন, আপনারা আমার ছেলে, আমার মা, বোন, ভাই, সন্তান। আপনারা ছাড়া আমার কোন কিছু নাই। আমি যেকোনও আন্দোলনের ডাক দিলে আপনারা তা সফল করবেন বলে প্রত্যাশা করি। লেখক, ব্লগার ও মুক্তমনা মানুষদের হত্যাকাণ্ড সরকারের মদদেই হচ্ছে। সরকারের মদদ না থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না।
শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
/সিএ/এমও/








