নতুন প্রজন্মের কাছে বই পড়া হয়ে উঠছে স্টাইল, রুচি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি উপায়। এমনকি বই পড়াকেও এখন ‘সেক্সি’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
তারকারা বই পড়ার ক্লাব চালু করছেন। ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো ক্লাসিক বইয়ের প্রচ্ছদ ব্যবহার করে ব্যাগ ও নানা পণ্য তৈরি করছে। ফলে সাহিত্য ও ফ্যাশনের জগৎ আরও কাছাকাছি চলে এসেছে।
ফরাসি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ডিওর তাদের জনপ্রিয় ‘বুক টোট’ ব্যাগের নতুন সংস্করণে 'ইউলিসিস' ও 'ড্রাকুলা'-এর মতো ক্লাসিক বইয়ের প্রচ্ছদ ব্যবহার করেছে। কোচ ও পেঙ্গুইন মিলে তৈরি করেছে ছোট আকারের বইয়ের আকৃতির ব্যাগ চার্ম। এসব ক্ষুদ্র বইয়ের লেখাও পড়া যায়।
এদিকে মিউ মিউ আয়োজন করছে ‘লিটারারি ক্লাব’। চ্যানেলও চালু করেছে সাহিত্যভিত্তিক আয়োজন ‘রঁদেভু লিতেরেয়ার’।
এই নতুন প্রবণতাকে কেউ কেউ বলছেন ‘হট লিটারাতি’ সংস্কৃতি। অর্থাৎ, সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করা, বই পড়া এবং সাহিত্যিক পরিসরে যুক্ত থাকাও এখন আকর্ষণীয় ও আধুনিক জীবনযাপনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই প্রবণতা নিয়ে বিতর্কও আছে। নিউইয়র্কভিত্তিক সাহিত্য সাময়িকী 'হুইটনি রিভিউ'–এর দলকে ‘হট লিটারাতি’ হিসেবে তুলে ধরেছিল আই-ডি ম্যাগাজিন। তাদের লেখকদের বলা হয়েছিল ‘কৌতূহলী ও সুন্দর’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উপস্থাপন নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেন। তাদের প্রশ্ন, সাহিত্য জগতে কি এখন শুধু আকর্ষণীয় চেহারার মানুষদেরই জায়গা হবে?
লেখক ও কনটেন্ট নির্মাতা সিহাম নায়েক মনে করেন, তরুণদের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও এই প্রবণতার সম্পর্ক আছে। তার মতে, জেন-জি প্রজন্মের অনেকের জন্য বাড়ির মালিক হওয়া কঠিন। তাই বই, শিল্পকর্ম ও বিশেষ ধরনের সংগ্রহের মাধ্যমে তারা নিজেদের রুচি ও পরিচয় প্রকাশ করছে।
তারকাদের বইয়ের ক্লাবও এই প্রবণতাকে আরও জনপ্রিয় করেছে। দোয়া লিপা, কাইয়া গারবার ও রিজ উইদারস্পুনের মতো তারকারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইয়ের সুপারিশ করেন। এতে অনেক লেখকও নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পান।
এই প্রবণতার শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় বুকটক ও বুকস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে পাঠকেরা সুন্দর বইয়ের তাক, নান্দনিক পড়ার জায়গা ও বিশেষ সংস্করণের বইয়ের ছবি শেয়ার করেন।
তবে অনেকে মনে করেন, বই পড়াকে আকর্ষণীয় করে তোলার এই প্রবণতা খারাপ নয়। পাঠকদের ‘বোরিং’ বা ‘অদ্ভুত’ হিসেবে দেখার পুরোনো ধারণা ভাঙতে এটি সাহায্য করতে পারে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—বই পড়া কি সত্যিই জনপ্রিয় হচ্ছে, নাকি বই পড়ার ‘দেখানো’টাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?
যুক্তরাজ্যের ইউগভের এক জরিপ অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে ৪০ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক জানিয়েছেন, আগের এক বছরে তারা কোনো বই পড়েননি বা অডিওবুক শোনেননি।









