রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করায় বাম সংগঠনগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ছাত্র রাজনীতি করার সময় বাম ছাত্রসংগঠন থেকে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হওয়ার কথাও তুলে ধরেন ঊণসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময়কার তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ।
মঙ্গলবার জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে আওয়ামী যুবলীগের এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী সংবাদচিত্র কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
তৎকালীন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৬৯ সালে আমাদের যে ১১ দফা কর্মসূচি ছিলো সেখানে আমরা ‘শেখ মুজিবসহ রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’ কথাটি লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্র ইউনিয়নের মতিয়া গ্রুপ ও ছাত্রমৈত্রীর মেনন গ্রুপ আমাদেরকে ‘শেখ মুজিব’ কথাটি লিখতে দেয় নাই।
প্রসঙ্গত, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক দুই নেতার মধ্যে মতিয়া চৌধুরী বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ও সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন এবং রাশেদ খান মেনন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বর্তমান সরকারের বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বাম রাজনীতিবিদদের অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা রামপাল নিয়ে কথা বলছে তার মধ্যে আমার অনেক বন্ধু আছে। তারা বাম রাজনীতি করেন। আমার বাম বন্ধুরা ১১ দফায় শেখ মুজিবের নাম লিখতে দেয়নি, এখন তারা রামপাল নিয়ে কথা বলে।’
বাম রাজনীতির অদূরদর্শীতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘মনি সিংহ ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমরা সমর্থন করতে পারি নাই। আমরা বঙ্গবন্ধুকে চিনতে পারি নাই। কিন্তু বাংলার মানুষ ঠিকই চিনতে পেরেছে।’
জঙ্গি নির্মূলে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে তোফায়েল বলেন, ‘হলি আর্টিজানে হামলার সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন এসব সাজানো, পরবর্তীতে কল্যাণপুরে জঙ্গিদের উপরে পুলিশের সফল অভিযানের পর তিনি বললেন পরিকল্পিতভাবে পেছন দিক দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের সফল পুলিশি অভিযানের পরও বক্তব্য দিলেন। এতেই প্রমাণ হয় তিনি কী চান।’
যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
/ইএইচএস/এমও/








