৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে রাজনীতিতে নতুন করে ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের পাল্টাপাল্টি বাক-বিতণ্ডা, পুলিশের তৎপরতা সব মিলে দেশে এক ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছে। কী হচ্ছে, কী হবে— সবার মধ্যে এই দুর্ভাবনা কাজ করছে। তবে ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ে অনেকটাই নির্ভাবনায় রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
তারা বলছেন, ৮ ফেব্রুয়ারির পুরোবিষয়টি মোকাবিলায় সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তত রয়েছে। শান্তি বিঘ্নিত হয়, এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা একেবারেই নেই।
জানা গেছে, বিএনপি অধ্যুষিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে আগে থেকেই বাড়তি সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিএনপির সন্দেহজনক নেতাদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। কাউকে কাউকে ইতোমধ্যে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বাড়তি প্রস্তুতি হিসেবে বিজিবি’র টহল রাখা হবে।
পুলিশি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা আরও বলছেন, যত গর্জে তত বর্ষে না। সুতরাং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকার সব রকম পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি কিছুই করতে পারবে না। তাছাড়া, আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মিরা সতর্ক অবস্থানে তো থাকবেই।
ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, রায়ে খালেদা জিয়ার শাস্তি অবধারিত মনে করে বিএনপির নেতাকর্মিরা গর্জন করছে ঠিকই, শেষ পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে না। সেই সাহস ও শক্তি তারা হারিয়ে ফেলেছেন। নৈতিকভাবে তারা দুর্বল। তারপরও শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কিছু ঘটলে, তার উচিত মূল্য দিতে হবে বিএনপিকে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। বিএনপি আদালতের বিষয় নিয়ে দেশের জনগণের শান্তি বিনষ্ট করার পথে হাটলে, তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত আমরা।’
তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। ৮ ফেব্রুয়ারি কিছু করার মতো সাহস বিএনপির নেতাকর্মিরা দেখাবে না।’
দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। তাদের দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন বাগিয়ে নেওয়ার জন্যে কিছু পারফরমেন্স শো করার চেষ্টা করবে হয়তো। সেটা ঢাকায়ও হতে পারে, ঢাকার বাইরেও হতে পারে—এটি মাথায় রেখে গোয়েন্দারা মাঠে কাজ করছে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘রায়কে ঘিরে কোনও অরাজকতা সহ্য করা হবে না। শান্তি-শৃঙ্খলা অটুট রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে।’








