আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে জয়-পরাজয় যা-ই হোক শেষ পর্যন্ত এতে থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যাবে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু করতে কতটুকু আন্তরিক। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে বোঝা যাবে সাধারণ ভোটারদের প্রতিক্রিয়াও। তাই নির্বাচন বয়কট করার কোনও চিন্তা নেই তাদের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব নির্বাচন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। এ নির্বাচন কীভাবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন শেষ করে তা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি ইঙ্গিত বহন করবে। সেই বার্তা জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে পরিষ্কার হবে। সরকার যদি জোর করে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের করে নেয় তাহলে এর প্রতিক্রিয়া আগামী নির্বাচনে হবে।’
খুলনায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফলাফল নির্ধারণ করবে ভোটাররা। সুষ্ঠু ভোট হলে আশা করি বিপুল ভোটে জয়ী হবো। সরকার দলীয় সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা-মামলা, গ্রেফতারের পর ভোটাররা আমার সঙ্গে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন দেখার বিষয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন কীভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে।’
তিনি বলেন, ‘আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এ মনোভাবের কথা দলীয় হাইকমান্ডকেও জানিয়ে দিয়েছি।’
বিএনপির নেতারা বলছেন, খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে সরকারের একটি ষড়যন্ত্রের গন্ধ এরই মধ্যে তারা পেয়েছেন। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে খুলনা সিটি নির্বাচনরে দিনই খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি দিন ধার্য করা হয়েছে। নির্বাচনের অনিয়ম ও ভোট কারচুপির ষড়যন্ত্র থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে এদিন শুনানির ধার্য তারিখ করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে না প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের মাথায় আসছে না কেন খুলনা সিটি নির্বাচনের দিন আদালত খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন? একদিন আগে বা পরেও শুনানি তারিখ নির্ধারণ করতে পারতেন।’ এখানে আদালত ও সরকারের কোনও যোগসূত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের ফলাফল নিতে যা যা করা দরকার নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহীনিকে সঙ্গে নিয়ে তাই তাই করছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির পোলিং এজেন্টদের তালিকা ধরে গ্রেফতার করছে, যাতে তারা কেন্দ্রে যেতে না পারে আর আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্টরা ব্যালট পেপার সিল মারতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ভোটাররা ছাড়া ওই এলাকায় কেউ থাকতে পারবে না। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও আশপাশের জেলার নেতারা অবস্থান করছেন। অথচ নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খুলনা সিটি নির্বাচনের সমন্বয়ক গয়েশ্বের চন্দ্র রায় বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘আমাদের দলের নেতারা গতকাল রবিবারই নির্বাচনি এলাকা ত্যাগ করেছে। কিন্তু এখনও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতা সেখানে অবস্থান করছেন। তবে এনিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনও মাথাব্যথা নেই।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণা গিয়ে আওয়ামী লীগ টেরে পেয়েছে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের প্রার্থীর বড় ব্যবধানে পরাজয় হবে। এ কারণে তারা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। এখন পর্যন্ত বিএনপির পোলিং এজেন্টসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে পোলিং এজেন্ট হতে কেন্দ্রে না যেতে।’
দলটির সূত্রে জানা গেছে, খুলনার পাশাপাশি ঢাকা থেকেও খুলনা সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হবে। নির্বাচনের দিন বিএনপির নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে নির্বাচনের খোঁজখবর গণমাধ্যমকে জানানো হবে।







