রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান তুলে দেবে জাকের পার্টি। একই সঙ্গে করনীতি পরিবর্তন করে ধনীদের জন্য সর্বোচ্চ ও মধ্যবিত্তদের জন্য সহনশীল করনীতি করবে দলটি। জাকের পার্টির ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেশারে এসব বিষয় তুলে ধরেন দলের চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল।
বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানের একটি হোটেলে জাকের পার্টির ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডের বিধান তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে দলটির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে সুরক্ষিত মানবাধিকার একটি দেশের সার্বিক এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম সূচক। নিরাপদ ও অগ্রগামী বাংলাদেশ সুনিশ্চিত করতে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ সব ক্ষেত্রে মানবাধিকারের লালন, বিকাশ ও সংরক্ষণ অপরিহার্য। রাজনীতির নামে দমন-নিপীড়ন বিচারবহির্ভূত হত্যা, বিনা বিচারে আটকসহ সব ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়নমূলক অপতৎপরতা রোধ করা গেলেই শান্তিময় জীবন-সংস্কৃতি বিকাশ হবে। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডের বিধান তুলে দিতে হবে কল্যাণময় জীবন-সংস্কৃতির বিকাশে। এ বিধান গ্রহণযোগ্য নয়।’
করনীতি প্রসঙ্গে মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেন, ‘আমাদের কর ব্যবস্থা আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতেই গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের যেখানে অল্প সংখ্যক মানুষের হাতে দেশের মোট সম্পদের উল্লেখযোগ্য অংশম সেক্ষেত্রে করনীতি সবার জন্য একই হতে পারে না। এখানেও বৈষম্য তৈরি হয়। শীর্ষ ধনী ও বিত্তশালীদের জন্য কর হার হতে হবে সর্বোচ্চ, মধ্যবিত্তদের জন্য হতে হবে সহনশীল।’ নতুন ব্যবসায়ীদের শুরুতে কোনোভাবেই কর আরোপ করা যাবে না। তিন বছর পরে তাদের করের আওতায় আনতে হবে।’
নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বয়সসীমা প্রসঙ্গে মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়সে ভোটার হওয়ার বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভোটার হয়ে যাওয়ার পরে ১৮ বছর বয়সেই যে কেউ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারে। এ ব্যাপারে নির্বাচনি আইনে সংশোধন আনা উচিত।’
সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রসঙ্গে মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু নির্ধারণ কোনোভাবেই মানবিক হতে পারে না। এক্ষেত্রে সবাই সম্মানিত নাগরিক। সবার সমঅধিকার ও মর্যাদা থাকবে। শিক্ষা ও কর্মের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে— একেক জনের ব্যক্তিগত আয় উন্নতির সূচক। জাকের পার্টি শুরু থেকেই অসম্মানজনক সংখ্যালঘু তত্ত্ব পরিহার করে একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়— ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, এই মূল মন্ত্রে কাজ করে চলছে। জাকের পার্টি সংসদে গেলে সংখ্যালঘু তত্ত্ব অর্থাৎ সংখ্যালঘু বলে ও সম্প্রদায়কে খাটো ও হেয় করার প্রথা আর থাকবে না।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে মোস্তফা আমীর ফয়সল বলেন, ‘এবারই প্রথম দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। ভোটের দিন আসলে বোঝা যাবে। আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, জাকের পার্টি এবারের নির্বাচনে মোট ৯০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।







