ছেলে শিক্ষার্থীদেরও অবৈতনিক শিক্ষা চান জামায়াতের এমপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৫আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৫

নারী শিক্ষার্থীদের মতো ছেলে শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষা অবৈতনিক করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য (এমপি) নুরুন্নিসা সিদ্দীকা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিন বুধবার (২৪ জুন) ২০২৬-৩৭ অর্থ-বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

নুরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, ‘আমি প্রথমে শিক্ষার বিষয়ে বলতে চাই। শিক্ষা খাতে মোট জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে– এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে এটা বেশি। কিন্তু আমরা একটা জিনিস অবাক হয়ে লক্ষ করছি, গত তিন দশক ধরেই নারী শিক্ষার ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং নারীরা শিক্ষায় বেশ এগিয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, শুধু কি নারীরাই এ দেশের নাগরিক, ছেলেরা নয়? ছেলে-মেয়ে উভয়ের যদি অধিকার সমান হয়, তাহলে কেন ছেলেদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?’

তিনি বলেন, ‘এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে দেখবো, সব দেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে অবৈতনিক করা হয়েছে। নেপাল এবং শ্রীলঙ্কাতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা। আর পাকিস্তান, আফগানিস্তানে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত, ভারত এবং ইরান অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত, আর বাংলাদেশে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। তাহলে ৫৪ বছর ধরে আমরা স্বাধীন আছি কিন্তু সেই স্বাধীনতার সুফল আমাদের সব সন্তানেরা পাচ্ছে না।

‘দ্বিতীয়ত, আমাদের এবারের বাজেটে বলা হয়েছে, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা মধ্যাহ্ন খাবার পাবে। আবার তারা পোশাক পাবে। তো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কতজন শিশু পড়ে আর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কতজন শিশু পড়ে? ডাবলেরও বেশি শিশু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। তাহলে তারা কেন পাবে না? এই বৈষম্য কেন?

‘তৃতীয়ত, আমাদের শিক্ষক সমাজ যেই ট্রেনিং পাচ্ছেন, সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে ট্রেনিং পান, বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কিন্তু ট্রেনিং সেভাবে পান না। এবং তাদের জীবনযাত্রার মানও অনেক নিচু। অনেক কম বেতনে তাদের কাজ করতে হয় এবং দেখা যায় যে মাসের পর মাস তারা বেতন পান না। তো এই ক্ষেত্রে নাগরিক বৈষম্য হয় না কি?

‘এই জন্য আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো, আমাদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর বেতন মওকুফ করা হোক। সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হোক।’

/এসএমএ/

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সংবিধান সংশোধনের পথেই হাঁটছে বিএনপি, কী করবে জামায়াত 
ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ৪ জনকে বহিষ্কার করলো জামায়াত
‘আওয়ামী লীগের আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই’ 
সর্বশেষ খবর
কাতারকে বিদায় করে অপেক্ষায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
কাতারকে বিদায় করে অপেক্ষায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
জৈব সারের নামে কৃষকদের দেওয়া হলো ‘ময়লা-আবর্জনা’
জৈব সারের নামে কৃষকদের দেওয়া হলো ‘ময়লা-আবর্জনা’
সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও কানাডার ইতিহাস
সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও কানাডার ইতিহাস
৩ ঘণ্টা পর গেলো সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামের সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু
৩ ঘণ্টা পর গেলো সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামের সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু
সর্বাধিক পঠিত
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মির্জা আব্বাসের সংসদে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন
মির্জা আব্বাসের সংসদে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন
কম দামে আনঅফিসিয়াল ফোন কেনা কি নিরাপদ
কম দামে আনঅফিসিয়াল ফোন কেনা কি নিরাপদ