পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই কোটা বাতিলের ঘোষণা

পাভেল হায়দার চৌধুরী
১১ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:১২আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:১৬

 

সংসদে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি- ফোকাস বাংলা)

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের লাগাম টেনে ধরতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। তাদের মতে, মাত্র দুই দিন পরই পহেলা বৈশাখ—বাংলা নববর্ষ। তাই নতুন বছরকে বরণ করার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শাহবাগকে আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে মুক্ত রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই এই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ না দিয়ে যেকোনও মূল্যে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় সরকার। পাশাপাশি সব ধরনের কোটা বাতিল ঘোষণা করলে দেশবাসীর প্রতিক্রিয়া কী হয়, সরকার তাও বুঝে নিতে চায়। এসব বিবেচনা থেকেই প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন কোটা নেই, আর আন্দোলনও থাকার কথা নয়। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর হাতে আর কোনও অপশন না থাকায় তিনি সব কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে উত্তম কাজটিই করেছেন।’

ক্ষমতাসীন দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘সরকার প্রধানের আশ্বাসের পরেও এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া মানেই হলো চক্রান্তকারী বিশেষ মহল ঢুকে পড়েছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে। তাই ইস্যুটি নিয়ে বেশি দূর যাওয়ার সুযোগ কাউকে দিলেই সরকারকে বেকায়দায় পড়তে পারতো। তাই কাউকে সুযোগ না দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সরকার প্রধানকে। এই আন্দোলন নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলবেই এমন স্বপ্নে যারা বিভোর ছিল, তাদের রণে ভঙ্গ দিতে হলো প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায়।’

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী একটি সূত্র জানায়,  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন সরকার প্রধান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার আশ্বাসের পরেও আন্দোলন অব্যাহত রাখায় সরকারের নীতি-নির্ধারকরা ধরেই নিয়েছেন, এতে ‘ঘি’ ঢালতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকারবিরোধী শক্তিগুলো। ফলে ইস্যুটিকে যেকোনও মূল্যে নিয়ন্ত্রণে আনাই ছিল সরকারের মূল উদ্দেশ্য। তাই সব ধরনের কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের সিদ্ধান্তে আসার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে বোঝাপড়া করেছেন। বোঝাপড়া করেছেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও। সবাই সব কোটা বাতিলের পরামর্শ দিয়েছেন তাকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘কোটা সংস্কারের বিষয়টি দেখা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল বলে মনে করি না।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের পরেও যে আন্দোলন অব্যাহত থাকে, সেটাকে ধরেই নিতে হবে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্য দিয়ে নিশ্চয়ই আন্দোলনও থামবে, ষড়যন্ত্রও নিশ্চিহ্ন হবে।’

   

 

/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
মুক্তি পেলেন সাবেক মেয়র আইভী
সর্বশেষ খবর
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী