আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি রাজনীতিতে পরাজিত হয়ে গেছে। তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা এখন টার্গেট করেছে দেশের অর্থনীতি। নতুন নতুন কৌশলে তারা অর্থনীতিতে আগুন জ্বালাতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে তাদের দেখবেন ঘোমটা পরা প্রার্থী। বাইরে দেখাবে আমাদের প্রার্থী নেই, তলে তলে এগুলো তারেক জিয়ার প্রার্থী।’
সোমবার (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় শ্রমিক লীগের এ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘বিএনপি নির্বাচনে আসলে দেখা যাবে ‘কত ধানে কত চাল’। সিটি নির্বাচনে তাদের দেখবেন ঘোমটা পরা প্রার্থী। বাইরে দেখাবে আমাদের প্রার্থী নেই, তলে তলে এগুলো তারেক জিয়ার প্রার্থী।’’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন দেশ সফর নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে এই সফরের গুরুত্ব যারা বোঝে না, তারাই বঙ্গবন্ধুকন্যার এ সফর নিয়ে কটাক্ষ করছে। শেখ হাসিনা দেশ বিক্রি করতে যাননি, তিনি গিয়েছেন দেশের উচ্চতা আর বাড়াতে। শেখ হাসিনা নিজের জন্য বিদেশে যাননি। তিনি বিদেশে গেছেন আগামী বাজেটের জন্য সহযোগিতা চাইতে। তিনি বিদেশে গেছেন বাংলাদেশের আজকে যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে কষ্ট পাচ্ছে সাধারণ মানুষ, এই সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে।’
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকে প্রমাণ হবে প্রধানমন্ত্রী বাজেট সহায়তার জন্য জাপানের ৩০ বিলিয়ন (জাপানি ইউয়ান), আবার বিশ্বব্যাংকও ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিতেছে। পদ্মা সেতু ছেড়ে গিয়ে তারা যে ভুল করেছে, তা বিশ্বব্যাংকও তাদের ভুল স্বীকার করেছে। সাধারণ মানুষের জীবনের শান্তির জন্য শেখ হাসিনা বিদেশ গেছেন। শেখ হাসিনার এবারকার সফর আমি এক কথায় বলবো— বাংলাদেশকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা জাতিকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান করেছেন।’
যারা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের বিরুদ্ধে বলে, তাদের কিছু বলবার নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হিংসার আগুনে জ্বলে। হিংসার আগুনে জ্বলে। পদ্মা সেতুর জ্বালা, মেট্রোরেলের জালা, বঙ্গবন্ধু টানেলের জ্বালা, ১০০ সেতুর জ্বালা, ১০০ রাস্তার জ্বালা, শেখ হাসিনার ওপর জ্বালায় তারা মরে। এই ঈদে কোনও পথেই অশান্তি নেই। মানুষ শান্তিতে বাড়ি ফিরেছে। মানুষ যদি শান্তিতে থাকে বিএনপির মনে কষ্ট লাগে। বাংলার মানুষ ভালো আছে, বিএনপির মন খারাপ।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন মানুষ বুঝে গেছে। এসব ভুয়া, ২৭ দফা ভুয়া। যারা গণআন্দোলনই করতে পারেনি, তারা গণঅভ্যুত্থান কীভাবে করবে। বিএনপি পথহারা পথিকের মতো দিশেহারা। তাদের আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়েছে। লুটপাটের হাওয়া ভবন, মাগুরা মার্কা নির্বাচন, প্রহসনের নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ ফিরে যাবে না। এ দেশের মানুষ অর্থপাচারকারীর কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে না।’
কাদের বলেন, ‘৫২ দল, ১২ দল, ১৪ দল, একবার শুনি ২৭ দফা, মানববন্ধন, এরপরে গোলাপবাগে গরুর হাঁটে গিয়ে হোঁচট খেয়ে আর দাঁড়াতে পারেনি।’
জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামশ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ।








