বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের

‘আমেরিকার মুরুব্বিদের সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা শেষ’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ অক্টোবর ২০২৩, ১৯:৪১আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩, ২০:০২

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তলে তলে যখন সব শেষ তখন আর এসব (বিএনপি-পিটার হাস বৈঠক) করে লাভ কী? পিটার হাসকে দেখিয়ে নির্বাচন বন্ধ করবেন, ঢাকায় তাণ্ডব করবেন, সেই খেলা খেলতে দেবো না। সেই খেলা সন্ত্রাসের খেলা, সেটা খেলতে দেবো না।... পিটার হাস সাহেবের মুরুব্বিদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়ে গেছে। আমেরিকার মুরুব্বি যারা তাদের সঙ্গে কথাবার্তা শেষ।’

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

পিটার হাসের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের প্রতি ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আর কাউকে তো পায় না! ওইভাবে আমেরিকানরাও আসে না। পাত্তা দেয় না। দৌড়ে যায় পিটার হাসের কাছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পিটার হাস, দুপুরে লাঞ্চ করতে যায় পিটার হাস, রাতে ডিনার করতে যায় পিটার হাস।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে ওবায়দুল কাদের (ছবি: ফোকাস বাংলা)

তিনি বলেন, ‘আমি জানি না হাসে ফখরুলকে কী স্বপ্ন দেখিয়েছে। তবে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখিয়ে কোনও লাভ নেই। ফখরুল সাহেব, দিল্লি বহু দূর! ক্ষমতার পথ আপনারাই বন্ধ করে দিয়েছেন। পিটার হাস সাহেব কী করবেন? ভিসানীতি দেবেন? কী করবেন, নিষেধাজ্ঞা দেবেন? পিটার হাস সাহেবের মুরুব্বিদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়ে গেছে। আমেরিকার মুরুব্বি যারা তাদের সঙ্গে কথাবার্তা শেষ। উচ্চ পর্যায়েও কথাবার্তা হয়ে গেছে।’

বিএনপির দেওয়া বদনাম গোছাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নজিরবিহীন সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা বেঁচে থাকলে এই দেশে নির্বাচন কেউ বন্ধ করতে পারবে না। নির্বাচন হবে, শান্তিপূর্ণ হবে। এ দেশে নজিরবিহীন উন্নয়ন করেছেন শেখ হাসিনা। এ দেশে নজিরবিহীন নিরপেক্ষ নির্বাচন তিনিই করবেন। নজিরবিহীন নিরপেক্ষ নির্বাচন হবেই।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে ওবায়দুল কাদের (ছবি: ফোকাস বাংলা)

তিনি বলেন, ‘ফখরুল সাহেব, নির্বাচনে না আসলে আমও যাবে, ছালাও যাবে। দুইটাই হারাবেন। দুনিয়াব্যাপী আপনারা বদনাম করেছেন। দেশে দেশে বদনাম করছেন। বদনাম গোছানোর জন্য শেখ হাসিনা এমন নির্বাচন করবেন, যে নির্বাচন হবে নজিরবিহীন। ফখরুল সাহেব, হারালে আর পাবেন না।’

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের সর্বশেষ বক্তৃতা শুনে মনে হলো, তিনি এখনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মরা লাশ নিয়ে টানাটানি করছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার মরা লাশ। আজিমপুর গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত। গোরস্থান থেকে ফখরুল এখন ওই মরা লাশ টেনে আনছে। এই মরা লাশের মুক্তি আসবে না।’

বিএনপি নেতাদের মাথায় ইউরেনিয়াম ঢেলে ঠান্ডা করে দেওয়ার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যারা বন্ধ করে দিতে চায়, আমরা এত কোটি কোটি টাকার ইউরেনিয়াম কেন আনলাম? এ জন্য বলেছি ওদের মাথার ওপর ঢালবো। ফখরুল, মির্জা আব্বাসরা গরম হয়ে যায়। তাদের মাথার ওপর ঢালতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের (ছবি: ফোকাস বাংলা)

আগামী জানুয়ারি মাসে সারা দেশে ফাইনাল খেলা হবে উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘খেলা হবে সারা ঢাকায়, খেলা হবে চট্টগ্রামে, খেলা হবে সিলেটে, খেলা হবে রাজশাহীতে, খেলা হবে বরিশালে, খেলা হবে খুলনায়, খেলা হবে সারা বাংলায়। ঠিক আছে? ফাইনাল পর্যন্ত খেলতে হবে। এখনই ক্লান্ত হলে চলবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলা হবে, খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান। খেলা হবে, সামনে আসছে সেমিফাইনাল। তারপরে ফাইনাল, গলা ঠিক রাখতে হবে। সামনে আরও দুই মাস, এখনই তোমরা বেশি ক্লান্ত হইয়ো না। সব দিক থেকেই খেলা হবে। ওরা ফাউল করবে, ফাউলের জবাব দিতে হবে। লাল কার্ড দেখাতে হবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির প্রমুখ।

আরও পড়ুন- 

বিএনপি নেতারা আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

‘এখন ডান্ডা মেরে নয়, মাথায় ইউরেনিয়াম ঢেলে ঠান্ডা করে দেবো’

তলে তলে যে বলি সেটা পাবলিক খায়, সেজন্যই তো বলি খেলা হবে: কাদের

তলে তলে সব আপস হয়ে গেছে: ওবায়দুল কাদের

 

/এমআরএস/এফএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
সর্বশেষ খবর
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী