বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ‘আরও শক্ত হওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন দলের সিনিয়র নেতারা। শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে দলের মহাসচিব, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠকে কয়েকজন সম্পাদক পর্যায়ের নেতারা তাকে এ পরামর্শ দেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি সফল হতে হলে মহাসচিবকে কঠোর হস্তে দল চালাতে হবে। তা হলে দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরামর্শদাতাদের নিজ-নিজ কাজে মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আপনরা নিজ-নিজ কাজে মনোযোগী হলেই বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।
শুক্রবার সকাল ১১ টায় শুরু হয়েছে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে। গত ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর তিন ধাপে এখন পর্যন্ত মোট ৪২ জন নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ছিল তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
জানতে চাইলে সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই বৈঠকটি আমাদের প্রথম বৈঠক। কুশলবিনিময় ও পরিচিতিমূলক বক্তব্যই বেশি হয়েছে। শামা ওবায়েদ জানান, সাংগঠনিক প্রথম বৈঠক ছিল। দলের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে সাংগঠনিক অবস্থার উন্নতি, রোজায় নিজ-নিজ এলাকায় সফর, সাংগঠনিক প্রতিবেদন প্রস্তুত, এক নেতার এক পদ বাস্তবায়নসহ সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৈঠকে বলেন, এখন থেকে নিয়মিত সম্পাদকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য প্রত্যেককেই নিজ-নিজ দায়িত্ব পালন করার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের বিগত দিনের কার্যক্রম দেখেই নির্বাচিত করা হয়েছে। ফলে, আগামী দিনেও এর প্রমাণ রাখতে হবে।
বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেই বৈঠক ডেকেছেন। সূত্রের দাবি, বৈঠকে একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ১৯ মার্চের কাউন্সিলে সংশোধিত গঠনতন্ত্র প্রকাশের দাবি জানান। ওই নেতা জানান, এক নেতার এক পদ এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। যাদের একাধিক পদ রয়েছে, তারাই জানাবেন তিনি কোন পদে থাকতে চান। এরপর তিনিও বিষয়টির ওপর জোর দেন।
বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বেগবান করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতের আন্দোলন ঘিরে দলকে আরও শক্তিশালী করা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপি যে নেতৃত্ব দেবে, সংগঠনকে সেভাবে গড়ে তোলার শপথ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন-অর রশিদ; সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন প্রমুখ।
আরও পড়তে পারেন: লুটপাট সহায়ক বাজেট: বিএনপি
/এমএনএইচ/







