বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থার ৩১ দিন পার হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৭ মে)। দিনে-দিনে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তার শারীরিক জটিলতা কমার সঙ্গে সঙ্গে মানসিকভাবেও তিনি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন বলে তাঁর চিকিৎসক ও দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগেও আপনাদের যা বলেছি, এখনও সে অবস্থাতেই আছেন বেগম জিয়া। কিছুদিন ধরে তিনি বেটার আছেন। লাঞ্চের পানি বের করতে যে পাইপ লাগানো হয়েছিল, সে পাইপগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। ভালোই আছেন তিনি।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাসপাতালে ভর্তির ৩১ দিন পার হচ্ছে আজ। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর গত ২৭ এপ্রিল শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা দেখা দিলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে ১০ সদস্যের একটি সমন্বিত মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
তার চিকিৎসক দলের অন্যতম সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বুধবার (২৬ মে) রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা তাঁর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। তারা সাবধানতার সঙ্গে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এখনই এ বিষয়ে প্রেডিকশন করার কোনও সুযোগ নেই।’
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে খালেদা জিয়ার। ১৫ এপ্রিল সিটিস্ক্যান করান তিনি। পরে অক্সিজেনজনিত সমস্যা দেখা দিলে ২৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
২৮ এপ্রিল ব্যক্তিগত ও এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। ৩ মে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিলে সেদিন বিকালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয় খালেদা জিয়াকে। পরে খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে ৫ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে লিখিত চিঠি দেন তাঁর ভাই শামীম এস্কান্দার। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ মে খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা নেগেটিভ আসে।
বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ‘আলোচনা’ নেই
মে মাসের শুরুতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে তোড়জোর শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে শুরুতে ইতিবাচক অবস্থান জানানো হলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেগম জিয়ার ভাইয়ের আবেদন নাকচ করে দেয়।
বিএনপির দায়িত্বশীলসূত্রগুলো জানায়, খালেদা জিয়ার বিদেশ গমন নিয়ে তিনটি পক্ষ সক্রিয়। একটি বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবার, দ্বিতীয় পক্ষটি সরকার ও তৃতীয় একটি পক্ষ।
সূত্রের দাবি, তৃতীয় পক্ষটি রাজনৈতিক বিচার-বিবেচনা করে বেগম জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার পক্ষে তৎপর হলেও বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে। বিশেষত, রাজনৈতিক দিকটি নিয়ে এখনও কিছু বিষয় খোলাসা করতে পারেনি কোনও পক্ষ।
এ প্রসঙ্গে বুধবার রাতে প্রভাবশালী একজন দায়িত্বশীল বলেন, ‘বিশ্বাসের বিষয়টা যুক্ত থাকায় প্রক্রিয়াটি ঝুলে আছে। সরাসরি যুক্ত দুইপক্ষের বাইরে একটি পক্ষের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত সাপেক্ষে প্রক্রিয়াটি সামনের দিকে যেতে পারে। শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে উন্নতি চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার যে ইতিবাচক ভূমিকা তৈরি হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে সরকারই সরে এসেছে। ফলে, দলের ওপর চাপ নেই। সরকারপক্ষ নিজেই জড়িত হয়ে পড়েছে।’
‘আর সে কারণেই বিএনপির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির পথ এড়িয়ে অপেক্ষা করা হচ্ছে।’—যোগ করেন ওই দায়িত্বশীল।
জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনও আলোচনা হয়নি। আমি বলতে পারবো না।’
আরও পড়ুন...
খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ
খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘স্বাধীনভাবে’ উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার প্রস্তুতি সম্পন্ন, অনুমতির অপেক্ষা
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পরিবারের আবেদন









