আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই সরকারের পতন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি বলেন, ‘আজ দেশের যে অবস্থা, আমরা এই অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। এই মুক্তির জন্য আমরা সব গণতান্ত্রিক দল নিয়ে বিভিন্নভাবে অন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে আছি। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই সরকারের পতন হবে। শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রেখে দেশে কোনও নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না। এটাই আমাদের এক দফা দাবি।’
বুধবার (২৪ মে) ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ১০ দফা দাবির’ সমর্থনে আয়োজিক অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী নবীন দল।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘এ দেশের সব উন্নয়ন জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার হাত দিয়ে এসেছে। আর আপনারা (আওয়ামী লীগ) করেছেন লুটপাট। আজ যদি দেশের মানুষকে জিজ্ঞেস করা হয়, শেখ হাসিনার পরে আওয়ামী লীগের নেতা কে হবেন, কেউ বলতে পারবে না। কিন্তু জিয়াউর রহমানের পর বিএনপির নেতা হয়েছেন খালেদা জিয়া, তারপর তারেক রহমান। আগামী ১০০ বছর পর্যন্ত বিএনপির নেতা কে হবে মানুষ তা বলতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। ফরমায়েসি রায় দিয়ে তারেক রহমানকে বিদেশে থাকতে বাধ্য করছেন। আপনার (প্রধানমন্ত্রী) মনে থাকা উচিত, আয়াতুল্লাহ খামেনি প্যারিসে বসেই ইরানের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। তিনি যেদিন ইরানের এসেছেন সেই দেশের জনগণ তাকে গ্রহণ করে অভ্যর্থনা দিয়েছে। তারেক রহমানও সাত হাজার মাইল দূরে থেকে দেশের মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন।’
অবস্থান কর্মসূচিতে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘গত তিন-চর দিন ধরে দেশ তাণ্ডব চলছে। আগে বলেছেন তারা শান্তি মিছিল করবেন। কিন্তু ওবায়দুল কাদের এখন বলছেন প্রতিরোধ করবেন। সেই প্রতিরোধ করে আমাদের নেত্রকোনা ও পটুয়াখালীতে বিএনপিকে সভা করতে দেয়নি। রাজবাড়ীতে আমাদের নেতা জয়নুল আবেদিন ফারুকের গাড়িতে হামলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল ধানমন্ডিতে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় পুলিশ আক্রমণ চালিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে আমাদের ৪২ জন নেতকর্মীকে। টিয়ার গ্যাস, বুলেট ছুড়ে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। রাজশাহীতে বিএনপি অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনায় বিএনপি অফিস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব নমুনা হচ্ছে আপনারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চান।’
বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘স্বৈরাচার যতই শক্ত হোক, যতই বড় বড় কথা বলুক কোনও লাভ হবে না। দেশে এবার ১০ দফা, ২৭ দফার আন্দোলন নয়, শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফার আন্দোলন হবে।’
জাতীয়তাবাদী নবীন দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল রানার সঞ্চালণায় অবস্থান কর্মসূচিতে আরও ছিলেন বিএনপি তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের সহ-সভাপতি ভিপি ইব্রাহীম, মৎসজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সেলিম আহমেদ, সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।








