সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত ঐতিহাসিক ‘নাগরিক শোকসভা’য় যোগ দিয়েছেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই সভা শুরু হয়। সভার শুরুতে শোকগাথা পাঠ করেন আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে সভাস্থলে প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত কার্ড ছাড়া ভেতরে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় সংসদ ভবনের বাইরে হাজার হাজার বিএনপি সমর্থক ও সাধারণ মানুষ ভিড় করেছেন। নেতাকর্মীদের কথা মাথায় রেখে বাইরে বড় পর্দার (বিশাল স্ক্রিন) ব্যবস্থা করেছেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠান শুরুর পর থেকেই বাইরে অবস্থান নেওয়া উৎসুক মানুষ সেই পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারিত শোকসভাটি দেখছেন।
তারেক রহমানের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত রয়েছেন। জুমা’র নামাজের পর থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় জনসমাগম বাড়তে থাকে।
দক্ষিণ প্লাজার প্রবেশমুখে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের কার্ড যাচাই করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যানবাহনের জন্য নির্ধারিত কার্ড না থাকলে কোনো গাড়িকে অনুষ্ঠান এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের কারণে অনেক গণমাধ্যমের গাড়িও মূল প্রবেশপথের বাইরে পার্কিং করতে দেখা গেছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি কোনও প্রথাগত রাজনৈতিক সভা নয়। বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশের জন্য তার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই আয়োজন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পর্যায়ক্রমে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। পুরো অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
এর আগে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ জানিয়েছিলেন, শোকসভার গাম্ভীর্য বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলের কোনও নেতা মঞ্চে বক্তব্য দেবেন না। তারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে দর্শকসারিতে অবস্থান করবেন। মঞ্চে কেবল বিশিষ্ট পেশাজীবী, গবেষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে বক্তব্য রাখবেন।
নাগরিক সমাজ এই শোকসভাকে কোনও রাজনৈতিক জনসভা নয়, বরং ‘শ্রদ্ধা জানানো ও নীরব উপস্থিতির একটি অনুষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য সেলফি না তোলা, হাততালি না দেওয়া এবং দাঁড়িয়ে না থাকার মতো কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।








