জাতীয় সমস্যা নিয়ে সরকারকে সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জামায়াত আমিরের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
২৫ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫৫আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫৫

জ্বালানি তেলসহ জাতীয় সমস্যা নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে সরকারকে খোলা মনে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু সরকার উল্টো পথে চলতে চায়। সংবিধান সংস্কার নিয়ে কোনও টালবাহানা চাই না, এটি সংসদেই সমাধান করতে হবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও রফিকুল ইসলাম খান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতা একটি জাতির কত বড় সম্পদ, তা স্বাধীন জাতি অনেক সময় উপলব্ধি করতে পারে না। পূর্বপুরুষদের দূরদর্শিতার কারণে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। পাকিস্তানি শাসক বাহিনী জনরায়কে বুলেট ও বেয়নেট দিয়ে দমন করেছে, মানুষ হত্যা করেছে, নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠন করেছে।

তিনি বলেন, একাত্তরের যুদ্ধের পর মানচিত্র পরিবর্তন হলেও ভেতরের পরিবর্তন হয়নি। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য এখনও রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে। কিন্তু আমরা এখনও স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত সুফল ভোগ করতে পারিনি, যার মূল কারণ দুর্নীতি। আমরা ভালো কথা বললে তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়—মূল ইস্যু আড়াল করতেই এমনটি করা হচ্ছে।

ঈদের দিনে কূটনীতিকদের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্তকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা নবীর সুন্নত অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করেছি। সুন্নত পালন করবোই, তবে ভুল হলে তার জন্য অনুতপ্ত হবো।

তিনি বলেন, আমাদের ভালো কথাগুলো অনেক সময় আংশিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ভালো কাজের বিপক্ষে গেলে একাত্তর ও চব্বিশের ত্যাগ ম্লান হয়ে যাবে। সত্যকে উৎসাহ না দিলে অসৎ শক্তি আরও শক্তিশালী হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দিক বিবেচনায় আমরা ফলাফল মেনে নিয়েছি।

তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে সরকার স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। নির্বাচনে পরাজিতদের জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে নির্বাচন আয়োজন করা যেত।

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা বিরোধী দলের দাবি সহজে মানেন না, পরে ঠিকই মানতে হয়। আমাদের সংস্কার প্রস্তাব কোনও দলের জন্য নয়, জাতির জন্য। আমরা কোনও অন্যায় মেনে নেবো না। পাকিস্তানি বাহিনীও মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল, তাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছিল—এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে পরিণতিও একই হতে পারে।

তিনি বলেন, আয়নাঘর ও ফাঁসি দিয়ে দমন করার চেষ্টা করা হলে আমরা প্রস্তুত আছি। তবুও জাতির স্বার্থে কোনও আপস করা হবে না।

জ্বালানি তেলসহ জাতীয় সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে খোলা মনে আলোচনা করুন। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাহাত্তরের সংবিধান শেখ মুজিবুর রহমানই বাতিল করেছিলেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানও তা বাতিল করেন। খালেদা জিয়া ও এম কে আনোয়ারও সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তাহলে এ সংবিধানের প্রতি এত দরদ কেন?

সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে হাদি, আবরার ফাহাদ, ফেলানীদের ত্যাগ অবমানিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর দেশে খুনের ঘটনা বেড়েছে। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে তা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। স্বাধীনতার ঘোষণার লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বলেই নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বার্তা আশাব্যঞ্জক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে সরকার ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান পরিবর্তন করেছে এবং এখন নানা অজুহাত দিচ্ছে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি।

মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসেন, অধ্যক্ষ আবদুর রব, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, ড. মোবারক হোসেন, রাশেদুল ইসলাম এমপি ও হাজী এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ।

/এমকে/এম/ 
সম্পর্কিত
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে টানাটানির সুযোগ দেওয়া হবে না: শফিকুর রহমান
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির নিন্দা জামায়াতের, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ
সর্বশেষ খবর
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী