বিএনপি সরকারঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট এবং ঋণনির্ভর বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একথা বলেন।
তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে তিনটি বড় বাধা দেখা যাচ্ছে। এগুলো হলো— গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়; লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
এই তিনটি বড় বাধার কারণে বাজেট বাস্তবায়নসহ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সরকারের জন্য খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত সেক্রেটারি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এবারের বাজেট ব্যাংক ও বিদেশি ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। করের আওতা বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কোনও কার্যকর রূপরেখাও এ বাজেটে নেই।
প্রস্তাবিত বাজেট লুটপাট ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে রফতানি আয়ও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীত সরকারের অনুসৃত পথেই বর্তমান সরকার এগোচ্ছে। খাতটিতে চলমান অনিয়মের মধ্যে এ বাজেট পাস হলে দেশের অর্থনীতি আরও সংকটে পড়বে বলে তিনি দাবি করেন। জনগণের ওপর ‘গণবিরোধী’ বাজেট চাপিয়ে না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, জামায়াতের ছায়া বাজেট জনকল্যাণ ও সুশাসনভিত্তিক একটি রূপরেখা তুলে ধরেছে। একইসঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজেট সংশোধন ছাড়া আগামী ৩০ জুন এটি সংসদে পাস করা উচিত হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন।









