বিএনপিকে বিরোধী দল আখ্যায়িত করে দেওয়া এমপিদের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেন, ‘এই সংসদে আমরাই (জাপা) বৃহত্তর বিরোধী দল। এখানে কোনও ভুল নেই।’
সোমবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।
মসিউর রহমান বলেন, ‘সংসদে অনেক সংসদ সদস্য বিএনপির সমালোচনা করতে গিয়ে সংসদে বিএনপিকে বিরোধী দল বলেন। সংসদে আমরা বৃহত্তর বিরোধী দল। আমরা বিরোধী দল— এখানে কোনও ভুল নেই। সংসদ সদস্যরা বিএনপিকে উদ্দেশ করে বিরোধী দল বলেছেন, তা এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।’
পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে জাপা এমপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনেক চেষ্টা করে, কষ্ট করে আজকে এই সেতুটি দাঁড় করিয়েছেন। আমার মনে হয়, সেতুটি উনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি সম্পন্ন করতে না পারতেন, তাহলে উনি নিজের ক্ষতি নিজেই করে বসতেন। স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এরকম একটি সম্ভাবনা উনার মধ্যে আমি দেখেছিলাম, উনার মধ্যে যে এনি হাও, এনি কস্ট এটা করতে হবে। উনি এটা করেছেন।’
পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে সমালোচনাকারীদের প্রতি ই্ঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যারা পরের ভালো দেখতে পারে না, পরশ্রীকাতরতা যাদের মধ্যে আছে, তারা বলেছেন—এটা করতে পারবেন না। এগুলো দেখার সময় উনার (প্রধানমন্ত্রীর) নেই। উনি যেভাবে দেশটার উন্নতি করছেন, আরো করবেন। আমরা তা বিশ্বাস করি।’
ফোক শিল্পী সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের একটি গানের কলি উল্লেখ করে রাঙ্গা বলেন, ‘বুকটা ফাইট্টা যায়— গানের মতো ওদের বুকটা ফাইট্টা যায়। ওই জন্য একবার বলে ভেঙে পড়বে। একবার বলে এই হবে, একবার বলে ওই হবে। কালকে (রবিবার) আমাদের সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেছেন, না হয় নৌকায় যাবেন। নৌকায় আবার কেমনে যায়। এটা তো আরেকটি বিপদ। তাহলে কিসে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, এ দেশটি আমাদের। এ দেশটা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। এনি হাও দেশটাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এজন্য যা করতে হয়, আমাদের করতে হবে।’
দুর্নীতিবাজদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘একটি মানুষের খেতে-পরতে কতকুটু সুযোগ-সুবিধা লাগে সেটা হওয়ার পর কেউ দুর্নীতি করলে, তার সঙ্গে সমঝোতা করার কিছু আছে বলে মনে করি না।’
রাঙ্গা বলেন, ‘দুর্নীতিবাজরা আমলা হোক বা রাজনীতিবিদ হোক বা অন্য কেউ হোক, তারা নিজেরাও জানে না— তাদের কত টাকা আছে। তাদের সন্তানেরা উশৃঙ্খলে চলে গেছে। খোঁজ নিয়ে দেখেন। এমপি সাহেবদের খোঁজ দেখেন, যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের একটি সন্তানও মানুষ হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু করা দরকার। আমার সংসদে আসতে একটা কোট দরকার, একটি টাই দরকার-এ টুকু বেশি। আমি যদি এখন বিদেশ থেকে বানিয়ে নিয়ে আসি। বিদেশ থেকে আয়রন করে আনি, বিদেশ থেকে জুতা কালি করে আনি, এগুলো মানুষ পছন্দ করে না।’
জাতীয় পার্টির এই এমপি বলেন, ‘রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নৌহালী ইউনিয়নের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় মঙ্গা এখন নেই। তারা এখন বিউটি পার্লার আনতে বলে, ব্যাংক আনতে বলে। খালি পায়ে কোনও মহিলাকে হাঁটতে দেখি না। মহিলারা মানুষের বাসায় কাজ করে না। জমিতে কাজ করে খায়। জমি বর্গা নিয়ে তারা কাজ করে খায়। তাদের স্বামীরা বিছানায় শুয়ে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘মেডিক্যালে অনেক দুর্নীতি হয়। বিনা পয়সার সব ওষুধ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এটা কেউ ধরে না। যারা ধরার যেকোনোভাবে হোক ধরে না। সংসদের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।’
রাঙ্গা বলেন, ‘আমাদের থাকার জায়গা সংসদ সদস্য ভবনের ফ্লাটগুলো এত সুন্দর হয়েছে যে, আমি যে বাড়ি ভাড়া থাকি, তা ছেড়ে দিয়ে এখানে থাকবো। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে প্রাপ্ত আমার রুমটিতে গেলেই লাইট জ্বেলে ওঠে। বেরিয়ে এলে লাইট বন্ধ হয়ে যায়। আগে সংসদের কোনও বাথরুমে যেতে পারতাম না। এখন দেখি, বাথরুম এত সুন্দর যে বসে মনে হয় নাস্তাও করা যাবে।’







