দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নেতারা বলেন, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিলে কর্মকর্তাদের ভেতরে প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হবে না।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলা ভবন অভিমুখে প্রতীকী মার্চের আগে সার্ক ফোয়ারার সামনে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও পরিবহনে গ্যাসের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা। পরে সেখান থেকে ‘প্রতীকী মার্চ’ করে পেট্রোবাংলা ভবনের সামনে যায় তারা।
উল্লেখ্য, তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে নীতিগত অনুমোদন চেয়ে সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ৬৭ শতাংশ ও পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিতে ৫১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থার বিতরণ চার্জ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের অনুমোদন পেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে (বিইআরসি) দাম বাড়ানোর আবেদন করবে তারা। এরপর গণশুনানি করে সিদ্ধান্ত দেবে বিইআরসি।
সার্ক ফোয়ারায় সমাবেশে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “জ্বালানি সরবরাহ ও জনবান্ধব কর্মসূচি নেওয়ার কথা থাকলেও পেট্রোবাংলা ও তিতাসের মতো সংস্থাগুলো লুটপাটের সংস্থায় পরিণত হয়েছে। পেট্রোবাংলায় নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে।” এর ভাগ মন্ত্রী থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জ্বালানি বিভাগে গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেই পাঁয়তারা বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে ঢাকাবাসীকে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধ করা হবে বলেও জানান আরিফুল ইসলাম আদীব।
তিনি বলেন, ‘গ্যাসের সংকটের কারণে আমাদের বোনেরা রান্না করতে পারছেন না। এর প্রতিবাদে আমরা খালি বাসন ও পাতিল নিয়ে এসেছি। এগুলো নিয়ে আমরা পেট্রোবাংলা অভিমুখে মার্চ করছি।” দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করে জ্বালানিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান প্রমুখ। সমাবেশের পর সার্ক ফোয়ারা থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পেট্রোবাংলা ভবনের ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।









