জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে যেসব খেলার মাঠ দলটির লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সরকার পরিবর্তনের পর সেগুলো বিএনপির দখলে চলে গেছে। এটি শুধু একটি দলের সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার করা জরুরি।’
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও এই সংকট এখনও আছে। এ কারণেই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যতটুকু সুযোগ ছিল, ততটুকুর মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া, আইন পরিবর্তন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ ও মতাদর্শ থাকতেই পারে। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যখন একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকবেন, তখন তাকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে পরিচালনা করা হলে তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়। বর্তমানে বিভিন্ন খাতে আবারও দলীয়করণ ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও স্বাধীন বিকল্প জায়গা তৈরি করা প্রয়োজন।’
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় গেলে শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যে দাবিগুলো আসে, তার একটি হলো খেলার মাঠ। বর্তমানে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কিন্তু মাঠের অভাবে অনেক শিশু খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না। অথচ বিভিন্ন এলাকায় খেলার মাঠ তৈরির মতো জায়গা থাকলেও সেগুলো দখল ও দলীয় প্রভাবের কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।’
দেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়াতে খেলাধুলার ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বমঞ্চে দেশকে পরিচিত করার বড় একটি মাধ্যম। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ক্রিকেটসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলাগুলোতে আরও ভালো করার পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।’
ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স এনসিপির অঙ্গসংগঠন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘এনসিপির সঙ্গে সংগঠনটির আদর্শিক ও নীতিগত সম্পর্ক রয়েছে, তবে এটি দলের অধীন কোনও সংগঠন নয়। রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন এবং অঙ্গসংগঠনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স নিজস্ব নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তে স্বাধীনভাবে কাজ করবে।’
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।