প্রয়োজনে পাকিস্তানের সঙ্গে সব কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন: শেখ সেলিম

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৪ মে ২০১৬, ১৫:৪৬আপডেট : ১৪ মে ২০১৬, ১৫:৪৬

শেখ সেলিম পাকিস্তানের  সঙ্গে প্রয়োজনে সব কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। পাকিস্তান বাড়াবাড়ি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেশি নাক না গলাতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর  মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথসভায় শেখ  ফজলুল করিম সেলিম এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিকেল ৩টার আলোচনা সভা সফল করতে এই যৌথসভার আয়োজন করা হয়।

শেখ সেলিম বলেন, পাকিস্তানের চোখ রাঙানিতে বাংলাদেশ ভয় পায় না। দরকার হলে জাতিসংঘের সহায়তা নিয়ে পাকিস্তানের ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী সেনা সদস্যের বিচার করা হবে। পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন,  আপনাদের মাথার বোঝা এখনও নামেনি। এখানে মানবতাবিরোধীদের বিচার হয়েছে। শিমলা চুক্তি করে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী সেনা সদস্যের বিচার  হওয়ার কথা ছিল,  আপনারা করেন নাই। দরকার হলে জাতিসংঘের সহায়তা নিয়ে সেই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী সেনা সদস্যের বিচার করবো।

পাকিস্তান সরকারের উদ্দেশে  সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেলিম বলেন,  তোমাদের সঙ্গে আমাদের এমন কোনও ব্যবসা-বাণিজ্য নাই,  মহব্বতও নাই। ওইখানে আমাদের স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবা?  দরকার হলে তোমাদের সঙ্গে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক আমরা রাখবো না।

ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এম আসলাম চৌধুরীর বৈঠকের কথা উল্লেখ করে শেখ সেলিম বলেন, বিএনপি মুখে ইসলামের কথা বলে। আর ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মেলায়। বঙ্গবন্ধু এই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেননি। মুসলমানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। আর ওনারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাদের ধরেছে। চিন্তা করেন আসলাম বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। এই ইহুদি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই সরকারকে উৎখাত করবে এবং বিএনপি ক্ষমতায় এসে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে- এই হলো তাদের ষড়যন্ত্র। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক শেখ হাসিনাসহ একটি কর্মী বেঁচে থাকতে ইহুদিরা বাংলাদেশে সুযোগ পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাকিস্তানকে লক্ষ্য করে যৌথসভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে ১৯৭১ সালেই। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আপনাদের নাক গলানো কিংবা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে আপনাদের এই ধৃষ্টতা দেখাবেন না। আপনাদের এই জংলি মনোভাব বাংলাদেশের মানুষ বরদাশত করবে না।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে যৌথসভায় আরও বক্তব্য  দেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক,  তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন,  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের  মেয়র সাঈদ খোকন,  ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানসহ অন্য নেতারা।

/পিএইচসি/এফএস/এপিএইচ/ 






সম্পর্কিত
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বশেষ খবর
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি