১৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন পালন না করতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উৎসাহিত করেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। খালেদা জিয়াকে বাদ রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত ঐক্য অবাস্তব বলেও মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এই সভাপতি। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় মতিঝিলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দুই ঘন্টার বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত জানাতেই সংবাদ সম্মেলন করেন বঙ্গবীর। তিনি জানান, খালেদা জিয়াকে তার দলের পক্ষে দুটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে, জামায়াতকে বাদ দিতে হবে। দলটিকে ২০ দলীয় জোটে রেখে কোনও ঐক্য সম্ভব না। দ্বিতীয়ত, ১৫ আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন পালন না করতে খালেদা জিয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
‘জাতীয় ঐক্য ইতোমধ্যে হয়ে গেছে’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরাও বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে ঐক্যের চেষ্টা করেছিল। যার পরিণতিতে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭১ সালের মতো সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গণবাহিনীকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিন। আপনি ব্যর্থ হলে আপনা-আপনি জাতীয় ঐক্যগঠনের কাজটি খালেদা জিয়ার ওপরে বর্তাবে। এই কাজ কিন্তু থেমে থাকবে না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করেন।
গত মঙ্গলবার অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জামায়াতের প্রতিবাদ-বিবৃতির সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তার বিষয়ে জামায়াতের প্রতিক্রিয়া ঔদ্ধত্যপূর্ণ।
বিএনপির মহাসচিবের সমালোচনা করে বঙ্গবীর বলেন, মির্জা ফখরুল সঠিক বলেছেন, কিন্তু রুচি যা বলে একজন প্রবীণ মানুষের কথাকে এভাবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন সম্পর্কে কাদের সিদ্দিকী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোয় জঙ্গি আছে কি না, খতিয়ে দেখা দরকার।
বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে খালেদা জিয়ার কেমন মনোভাব ছিল, এমন প্রশ্নে বঙ্গবীর বলেন, অপেক্ষা করতে হবে। সময় লাগবে।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন- খালেদাকে যা শোনালেন কাদের সিদ্দিকী
/এসটিএস/এফএস/








