অবশেষে একই মঞ্চে বসলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। সেই সঙ্গে তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বেরও অবসান হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফের ১১তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বিভেদ ভুলে এই দুই নেতা একত্রিত হন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মেয়র খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন শাহে আলম মুরাদ।
অনুষ্ঠানে শাহে আলম মুরাদ বলেন, ‘সকালে আজিমপুর কবরস্থানে আমরা প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফকে ঐক্যবদ্ধভাবে স্মরণ করেছি। বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অন্য সহযোগী সংগঠন যেভাবে কাজ করেছে, আগামীতেও একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।’
এসময় তিনি মেয়র সাঈদ খোকনের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আপনার পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আপনাকে সহযোগিতা করবো। এটাই আজকের শপথ।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট তার বক্তব্যে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র জামায়াত-বিএনপি, এমনকি অভ্যন্তরীণভাবেও হচ্ছে। তাই নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সধারণ সম্পাদক বলেন,‘ফখরুল সাহেব, আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা যাবে না। আওয়ামী লীগ বিএনপি নয়। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগের শেকড় বাংলাদেশের মাটির অনেক গভীরে। ধাক্কা দিয়ে আওয়ামী লীগের এই বটবৃক্ষের পতন হবে না। শেখ হাসিনা উন্নয়ন দিয়ে গণঅভ্যুত্থান শব্দটিকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।’
তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নে খুশি। আপনারা গত সাড়ে ৮ বছরে অনেকবার সরকারকে হটানোর ডাক দিয়েছেন। জনগণ আগামী এক বছরেও সারা দেবে না। বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাই বলে এই দলকে তুচ্ছ করছি না। এই দলে আওয়ামী লীগবিরোধী সব শক্তি শামিল হয়েছে। সব সাম্প্রদায়িক শক্তি আজ বিএনপির সঙ্গে। ফলে তাদের দুর্বল ভাবার কারণ নেই।’
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের দলে এখন অনেক নেতা। নেতার ভিড়ে কর্মী চেনা কঠিন। বিলবোর্ডে তাকালেই দেখি পাতি নেতা, সিকি নেতা। এই নেতাদের ভিড়ে দুঃসময়ের কর্মীরা কোনঠাসা হয়ে যান।’
পরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও মেয়র সাঈদ খোকনকে ডেকে দু’জনের হাত মিলিয়ে দেন ওবায়দুল কাদের। এসময় তিনি বলেন, ‘সামান্য ভুল বোঝাবুঝি ছিল। মীমাংসা হয়ে গেছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ।’
স্মরণসভায় কাউন্সিলর আবু আহমেদ মান্নাফির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।
আরও পড়ুন:








