মেননের ওয়ার্কার্স পার্টির এ কেমন বহিষ্কার!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:০০, অক্টোবর ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৩, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

বিমল বিশ্বাসদলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আদর্শচ্যুতির অভিযোগ এনে গত ২২ অক্টোবর দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস। এই ঘটনার চারদিন পর শনিবার (২৬ অক্টোবর) পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে তাকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির পলিটব্যুরো সদস্য কামরুল আহসান। আর এই বহিষ্কারকে গুরুত্বহীন ও অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন বিমল বিশ্বাস।
বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বিমল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি তো গত ২২ অক্টোবর দলের প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এই সিদ্ধান্তের কোনও প্রশ্নই আসে না। আমি তো গণতান্ত্রিক অধিকার বলেই দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। তাহলে তো তারা গণতান্ত্রিক অধিকারও চর্চা করতে দেবেন না।’
এর আগে, গত ২২ অক্টোবর পদত্যাগ করেছিলেন দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস। কৌশলের নামে ওয়ার্কার্স পার্টির  নীতি জলাঞ্জলির অভিযোগ এনে ওইদিন তিনি পদত্যাগ করেন। ওই সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির কৌশলগত যে ঐক্য, তা কাজে লাগানো হয়েছে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার জন্য। লুটেরা ধনিকশ্রেণির যেকোনও দলই সমাজ বিপ্লবকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মূলগতভাবেই শত্রু।’

বিমলের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওয়ার্কার্স পার্টির সিদ্ধান্তে বলা হয়, ‘আদর্শগত ও রাজনৈতিকসহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও বাস্তবায়নে দুই দফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। সুতরাং তার এসব অভিযোগ অবাস্তব। আদর্শগত বিচ্যুতির জন্য তিনিই মূলত দায়ী।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলের পলিটব্যুরোর সদস্য কামরুল আহসান বলেন, ‘ওয়ার্কার্স পার্টির ২-৫ নভেম্বরের দশম কংগ্রেসকে সামনে নিয়ে পার্টির দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক আজ (২৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট ফেনী সমিতি মিলনায়তনে শুরু হয়েছে। এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পার্টির পলিটব্যুরো সভা অনুষ্ঠিত হয়।’

কামরুল আহসান আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিটব্যুরো সদস্য বিমল বিশ্বাসের পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে প্রত্যাহার সম্পর্কিত চিঠি নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে সকালে অনুষ্ঠিত পার্টির পলিটব্যুরোর সভার সুপারিশ অনুযায়ী পার্টির গঠনতন্ত্রের বিধি-১২ অনুযায়ী তার সদস্যপদ প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ না করে তাকে পার্টি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

দলের পলিটব্যুরোর এই সদস্য আরও বলেন, ‘‘পার্টির কাছে তার দেওয়া চিঠি পৌঁছানোর আগেই তিনি কংগ্রেস থেকে যারা বেরিয়ে যাবেন, তাদের নিয়ে দল করারও ঘোষণা দিয়েছিলেন। পার্টির প্রকাশিত ‘ফোরাম’-এর লেখাও ফেসবুকে দিয়ে দিয়েছেন। এসব ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, তিনি পার্টি ভাঙার জন্য উপদলীয় চক্রান্তে ছিলেন। এখনও আছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পার্টির শৃঙ্খলা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন।’

পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির পলিটব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ। বিমল বিশ্বাসকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সভায় এ প্রস্তাব তোলার পর কেউ কেউ বলেছেন, প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর বহিষ্কারের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু কমিটির অধিকাংশ সদস্য এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন।’

দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পলিটব্যুরোর ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় কংগ্রেস সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, নুরুল হাসান, ড. সুশান্ত দাস, মোস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, মাহমুদুল হাসান মানিক, ইকবাল কবির জাহিদ, হাজেরা সুলতানা, নুর আহমদ বকুল, কামরূল আহসান, অনিল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, মোসাদ্দেক লাবু, আমিরুল ইসলাম আমিন, জ্যোতি শংকর ঝণ্টু প্রমুখ।

/এসটিএস/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ