আ.লীগের সম্মেলনস্থলের আশপাশে সম্রাটের মুক্তির দাবিতে পোস্টার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:৫৬, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১২, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯

সম্রাটের মুক্তির দাবিতে প্রচারণাআওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থলের আশপাশের এলাকায় ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের মুক্তির দাবিতে প্রচারণা চালানো হয়েছে। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের সেগুনবাগিচা, মৎস্য ভবন এবং ঢাকা ক্লাব এলাকায় সম্রাটের মুক্তির দাবিতে লাগানো প্রচারণা পোস্টার এবং ফেস্টুনের দেখা মিলেছে।

তবে কে বা কারা এমন প্রচারণা চালিয়েছেন সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি নেতাকর্মীরা। পোস্টার ও ফেস্টুনে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট মুক্তি পরিষদ এবং ঢাকা তৃণমূলের সর্বস্তরের যুব সমাজের নাম দেখা গেছে।

ঢাকা তৃণমূলের সর্বস্তরের যুব সমাজের ব্যানারে লাগানো ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবির পাশাপাশি কোনও এক সমাবেশে সম্রাটের ভাষণ দেওয়ার ছবি জুড়ে দিয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়। এতে ‘দুর্দিনের সম্রাট ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’ এমন প্রচারণা স্লোগান লেখা ছিল।

সম্রাটের মুক্তির দাবিতে প্রচারণাঅন্যদিকে সম্রাট মুক্তি পরিষদের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান ভূঁইয়ার লাগানো প্রচারণা পোস্টারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ ফজলুল হক মনি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সম্রাটের ছবি জুড়ে দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘ঢাকার রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুঃসময়ের কর্মী যুবলীগের ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

সম্রাটের মুক্তির দাবিতে প্রচারণাপ্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা সম্রাটকে গ্রেফতার করেন। র‌্যাবের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ক্যাসিনো পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের প্রথম দিন থেকেই সম্রাট কয়েকশ’ নেতাকর্মী নিয়ে কাকরাইলে তার নিজ কার্যালয়ে অবস্থান নেন। পরে তার অবস্থান ও আটক নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। এরই মধ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর তার ব্যাংক হিসাব স্থগিত ও তলব করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর তার বিদেশ গমনে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা।

এদিকে ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’— এই স্লোগান নিয়ে শুক্রবার আওয়ামী লীগের ২১তম সম্মেলন অনুষ্ঠিগ হচ্ছে। বিকাল ৩টায় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা ও দলের সাধারণ সম্পাদক দলীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। দলের জেলা নেতারাও উত্তোলন করবেন পতাকা। পরিবেশন করা হবে জাতীয় সংগীত। সারাদেশের প্রায় সাড়ে সাত হাজার কাউন্সিলর ও ১৫ হাজার ডেলিগেটসহ প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী সম্মেলনস্থলে জড়ো হয়েছেন। বিএনপিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে সাড়ে ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা। এরপর শুরু হবে রুদ্ধদ্বার কাউন্সিল। এই কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। 

/আরজে/টিটি/এপিএইচ/

লাইভ

টপ