‘ভাঙা বাসদ’ আবারও ভাঙলো

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২১:১১, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৭, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

 

মতপার্থক্যের কারণে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ভেঙে ২০১৩ সালে গঠিত হয় বাসদ (মার্কসবাদী)। ৭ বছরের মাথায় একই কারণে ভাঙা বাসদ (মার্কসবাদী) আবারও ভাঙলো। দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে দলের কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তীসহ ১৬ জনকে বহিষ্কার করেন সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ভাঙলো বাসদ। বহিষ্কৃত নেতাদের নেতৃত্বে বাসদ নামে আরেকটি দল গঠন হতে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

২০১৩ সালে ১২ এপ্রিল বাসদের তৎকালীন সাধারণ খালেকুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে দলের আদর্শচ্যুতির অভিযোগ এনে বেরিয়ে আসেন ওই সময়কার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর ও শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী। ওই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে মুবিনুল হায়দারকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয় বাসদ (মার্কসবাদী)। ৭ বছর পর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন সেই শুভ্রাংশুকেই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে বহিষ্কার করা হলো।

সংবাদ সম্মেলনে মুবিনুল হায়দার বলেন, দলের মূলনীতিবিরোধী অবস্থান ও ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক নিয়ম-শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্য পরিচালনা কমিটির সদস্য কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী ও কেন্দ্রীয় নির্ধারিত ফোরামের ১৬ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমি এবং দলের আরও কমরেডরা ২০১৩ সালে খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বধীন বাসদ ভেঙে বেরিয়ে এসেছিলাম একটা সঠিক বিপ্লবী ধারার পার্টি গড়ে তুলতে। কিন্তু গত ৭ বছরে সেই পদ্ধতি, নীতি অনুসরণ করে চলা হয়নি। সেই জন্যে আমরা লিখিতভাবে প্রস্তাব দিয়েছি, যে নীতিতে দল গঠন করেছিলাম সেটা অনুসরণ করে নতুন করে আবার দলটা শুরু করতে। তারাও বলেছিল, ‘এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে’। কিন্তু হঠাৎ করে বললো, ‘এটা দলের শৃঙ্খলার বাইরে যাচ্ছে। হয়তো আপনার এই অবস্থান থেকে সরে আসেন, না হলে পার্টি ব্যবস্থা নেবে’। কিন্তু আমরা নীতিগত পদ্ধতি থেকে সরে আসিনি। ২৩ ফেব্রুয়ারি আমাকে বহিষ্কার করা হয় আর বাকিদের আরও আগে করা হয়েছে। আজ ঘোষণা দিয়েছে আর কী।’’

বহিষ্কৃত শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তীর অভিযোগ অস্বীকার করে মুবিনুল হায়দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষের চিন্তার পরির্বতন হয় । গত ৪০ বছর ধরে শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী আমার সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে তিনি বলে আসছেন বাসদ কোনও দল নয়, এটি একটি পেটি বুর্জোয়া পার্টি। আবার কখনও বলছেন এটি কিছু লোকের সংঘবদ্ধ গ্রুপ। যদি এটি কোনও পার্টি না হয় তাহলে আলাদাভাবে এই নাম নিয়ে কেন বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করছেন তিনি। এই জন্য তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

বহিষ্কৃত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার বাসদ (মার্কসবাদী) নেতারা যোগাযোগ করছে বহিষ্কৃত নেতাদের সঙ্গে। আগামী সপ্তাহে জেলার নেতাদের সঙ্গে নতুন পার্টি গঠন নিয়ে আলোচনা করা হবে। তারপর নতুন পার্টির ঘোষণা আসবে। তবে নতুন পার্টির বাসদ নামে হবে নাকি অন্য কোনও নামে হবে সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   

শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘২৬ জেলার বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা আমাদের সঙ্গে আছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে কী করতে পারি সেটা ঠিক করবো। তবে যেহেতু বাংলাদেশে সর্বহারা শ্রেণির জন্য যথাযথ কোনও পার্টি গড়ে উঠেনি, তাই একটা পার্টি গড়ে তোলা দরকার। আমরা যেহেতু এটাকে অনুভব করি। ফলে এ নিয়ে দেরি করবো না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহিষ্কৃত এক নেতা বলেন, ‘নতুন পার্টির নামের আগে বা পরে বাসদ শব্দটি থাকবে। কারণ আমরা তো বাসদেরও অংশ।’    

প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালে বাসদ প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে আদর্শগত মতবিরোধের জের ধরে বাসদ (মাহবুব) ও বাসদ সমাজতান্ত্রিক (খালেকুজ্জামান) নামে দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এরপর ২০০৫ সালে বাসদের ছাত্রসংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের তৎকালীন সভাপতি নুরুল ইসলামসহ একটি অংশের নেতারা বাসদ ও ছাত্রফ্রন্ট থেকে আলাদা হয়ে যান। আবার ২০১০ সালে বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত আবদুল্লাহ সরকার ও সাইফুর রহমান তপনসহ কয়েকজন নেতা দল থেকে বেরিয়ে যান। তবে তারা কোনও দল গঠন করেনি। সর্বশেষ ২০১৩ সালে শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী ও মুবিনুল হায়দার বেরিয়ে এসে বাসদ মার্কসবাদী নামে নতুন দল গঠন করেন। 

 

/এমআর/

লাইভ

টপ