অফিসবন্দি জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাসায় ফিরলেন রিজভী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৫৯, মার্চ ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৫, মার্চ ২৬, ২০২০

 অফিস ছেড়ে বাসায়  ফিরছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দলীয় অফিস ছাড়েননি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  তবে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ৬ মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার পর এবার ৭৮৭ দিনের স্বেচ্ছা অফিসবন্দি জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাসায় ফিরেছেন রিজভী। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তিনি নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় ফিরে যান বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা হলে তাকে নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে তৃতীয় তলায় ছোট একটি রুমে বসবাস করে আসছিল রিজভী। বুধবার (২৫ মার্চ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে ৬ মাসের জন্য খালেদা জিয়া মুক্তি পান। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্যালয়ে ছেড়ে চলে যান রিজভী। এই পুরো ৭৮৭ দিন নয়াপল্টনের কার্যালয়ে কয়েকটি ঈদেও করেছেন তিনি।

তবে এই দুই বছরের বেশি সময়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে দেখতে দলের কার্যালয়ে আসতেন তার স্ত্রী আনজুমান আরা আইভি।

৭৮৭ দিন অফিসে থাকার সময় রিজভী প্রতিদিন দলের কোনও না কোনও ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন করতেন। কোনও-কোনও দিন একাধিকবারও তাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা গেছে। এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সময় ভোরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলও করতেন রিজভী। তবে এই পুরো সময়ে দলের কার্যালয়ে থাকার জন্য দলের অনেক নেতার তিরস্কারও শুনতে হয়েছে তাকে। এমনকি গত বছর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির একাংশের আন্দোলনের সময় রিজভীকে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে ভবনের বিদ্যুতের লাইনও কেটে দেওয়া হয়। কয়েকবার কার্যালয়ে মূল ফটকে তালাও ভাঙচুরও করা হয়। কিন্তু কোনও কিছুতেই রিজভী কার্যালয় ছেড়ে যাননি।

রিজভী বলেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম যে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যতদিন পর্যন্ত অবৈধ সরকারের কারাগার হতে মুক্ত না হন, ততদিন পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়েই থাকবো। কষ্ট করে থেকেছি। এই সময়ের মধ্যে আমি দলের হয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থেকেছি। দেশনেত্রী কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় চেষ্টা করেছি নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে। তারা দলীয় কার্যালয়ে এসে যেন বিমুখ হয়ে চলে না যান।’

 

/এএইচআর/টিটি/

লাইভ

টপ