ক্ষুধা লকডাউন বোঝে না: রিজভী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:০০, এপ্রিল ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৮, এপ্রিল ০৬, ২০২০

রুহুল কবির রিজভীবিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশে লকডাউন করা হয়েছে দিনমজুর শ্রেণির মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করে। আর আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজেও এই মানুষগুলোর জন্য কিছু নেই। এরা তাহলে কী করবে, কোথায় যাবে? ক্ষুধা লকডাউন, কোয়ারেন্টিন, সামাজিক দূরত্ব বোঝে না।’

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এক ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।  

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজে বিভিন্ন সেবামূলক কাজে যারা জড়িত তাদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকিভাতার কথা কোথাও নেই। বিশেষ করে এতদিন গণমাধ্যমকে সহায়তার যে কথা বলা হয়েছিল তাও প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজে উল্লেখ নেই। অথচ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা এখন দায়িত্ব পালন করছেন।’

ঢাকাসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বেছে বেছে নিজস্ব লোকজনের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছে বলে গণমাধ্যমেও খবর বেরিয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘অন্যদিকে গরিবরা ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। ত্রাণের চাল চুরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সতর্কবার্তা থাকলেও থেমে নেই অপকর্ম। প্রতিদিনি সংবাদপত্রে আওয়ামী লীগের স্থানীয় অনেক নেতার বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল চুরি ও লুটপাটের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কারও কারও গুদামে অভিযান চালিয়ে বিক্রয় নিষিদ্ধ ভিজিডি’র চাল, ত্রাণের চাল উদ্ধার করা হচ্ছে। এতদিন হয়েছিল সরাসরি টাকা লোপাট, এখন হচ্ছে রিলিফ লোপাট।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও ভয়ঙ্কর। এমনও ঘোরতর সংকটেও বাংলাদেশ সরকারের হেয়ালি দেশের জনগণকে অসহায় করে তুলেছে। সরকার বিষয়টি নিয়ে জনগণের সঙ্গে কেন এত লুকোচুরি করছে বোধগম্য নয়। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, উন্নত কিংবা অনুন্নত দেশ যারাই করোনাভাইরাস পরিস্থিতিকে গুরুত্ব না দিয়ে কথার ফুলঝুড়ি ছড়িয়েছে, তাদের এখন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এখানেই আমাদের ভয়, দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা-মন্ত্রীরা প্রতিদিন যেভাবে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অযথা বাক্যবাণ নিক্ষেপ কিংবা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্ববিরোধী বক্তব্য মন্তব্য করছেন, তাতে মনে হয় সরকার এখনও পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছে না। এখানে সেখানে মানুষের মরদেহ পড়ে থাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। এটি শুভলক্ষণ নয়।’

বিএনপির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথা বলা আওয়ামী লীগ নেতাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এ কারণে আওয়ামী লীগের কথার জবাব দিয়ে বিএনপি সময় নষ্ট করতে চায় না। আমরা বরং সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, যেহেতু রাষ্ট্রীয় অর্থ, রাষ্ট্রীয় যন্ত্র আপনাদের হাতে সেহেতু এই মুহূর্তে দেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানো আপনাদের দায়িত্ব।’

রিজভী আরও বলেন, ‘দেশের হাজার হাজার গার্মেন্ট শ্রমিকের সঙ্গে সরকার যে আচরণটি করেছে, এটি কোনও সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অবস্থানগত পার্থক্য সর্বোপরি সমন্বয়হীনতা সংশ্লিষ্ট সবাইকে মর্মাহত করেছে। সরকারের পাশাপাশি এই খাতের উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বও চরম দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে। কারখানা খোলা ও বন্ধ রাখা নিয়ে লুকোচুরি খেলা খুবই ন্যক্কারজনক। চাকরি হারানোর ভয়ের কাছে মৃত্যুর ভয়কেও হার মানিয়েছে পোশাক শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষজনকে। ফলে তার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাস্তায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে শুরু করে কর্মস্থলে।



 

 

/এএইচআর/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ