ব্যস্ত হচ্ছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩২, মে ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৬, মে ০৪, ২০২০

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা (ফাইল ফটো)করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বিশেষ পরিস্থিতিতে গত এক মাসে দলের নীতিনির্ধারক ও সিনিয়র নেতাদের অধিকাংশ মৌনতা অবলম্বন করলেও নতুন করে তাদের নানা কাজে যুক্ত করছে বিএনপি। রবিবার (৩ মে) অনলাইন বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নেতৃত্বে কয়েকটি কমিটি গঠিত হয়েছে। স্কাইপে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে এসব বিষয়ে জানা গেছে।

সোমবার (৪ মে) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান, ইতোমধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে উপদেষ্টা ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আহ্বায়ক করে ‘জাতীয় করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ডা. হারুন অর রশীদ, ডা. আব্দুস সালাম, ডা. রফিকুল ইসলাম, সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, ফজলুর রহমান খোকন ও ইকবাল হোসেন শ্যামল।

এ কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনগণকে ঘরে থাকতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা এই সরকারের নেই। বর্তমানে যে লকডাউন চলছে, তা একটি হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। অনেকটা ছুটির মতো পরিলক্ষিত হচ্ছে বিষয়টি। আমরা এই সেল গঠন করেছি করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থা ও সারা দেশে কী অবস্থা তা জানাতে। আমরা সারা দেশ থেকে আমাদের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবো। আমাদের কাজ শুরু হয়েছে।’

কমিটির একাধিক সদস্য জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে দলগতভাবে বিএনপি আগে থেকেই যেসব সতর্কবার্তা সরকারের উদ্দেশে দিয়েছিল, তা কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্যই আমলে নেওয়া হয়নি। উপরন্তু, স্বাস্থ্য খাত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পর্যায়ক্রমে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলোসহ সবিস্তারে তুলে ধরবে বিশেষ এই সেল।

স্থায়ী কমিটির সূত্র জানায়, ১০ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানায়। পরে ১৬ মার্চ সরকার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯ মার্চ আবারও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আদালত বন্ধের দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে। পরবর্তী সময়ে সেটিও বাস্তবায়ন হয়। করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গত ৪ এপ্রিল বিএনপি মহাসচিব ৮৭ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন সরকারকে। ওই প্রস্তাব সেদিন বিকালে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রত্যাখ্যান করেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন ৫ এপ্রিল। পর্যায়ক্রমে তিন দফায় তিনি ৯৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল সরকারের এই উদ্যোগকে ‘জনমতকে গুরুত্ব দিলেও তাকে শুভঙ্করের ফাঁকি’ বলে অভিহিত করেন।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র ধরে কাজ করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এক্ষেত্রে করোনাভাইরাসজনিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক দিকগুলো পর্যালোচনা করতে দুটি কমিটি গঠন করা হতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব কমিটির ঘোষণা আসবে— এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন স্থায়ী কমিটির দুই নেতা। এসব কমিটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘সারা দেশে বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। সেক্ষেত্রে সরকারের উদ্দেশে আবারও ত্রাণ বিতরণে গাফিলতি, সুচারুরূপে ত্রাণ দিতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে আবারও বলা হবে। চিকিৎসা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় দলীয় সমর্থিত চিকিৎসকদের মাধ্যমে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে বিশেষ সেল গঠনের আলোচনা হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় সূত্র জানায়, রবিবার (৩ মে) রাতে দলের নীতিনির্ধারকদের আলোচনার সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন বিএনপি মহাসচিব।

আরও পড়ুন:

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা নীরব: দলীয় রাজনীতি ‘কোয়ারেন্টিনে’!

/এসটিএস/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ