বাজেটের থোক বরাদ্দ মনিটরিংয়ের দাবি জিএম কাদেরের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:১৪, জুন ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১৯, জুন ২৯, ২০২০

জি এম কাদেরবাজেটে থোক বরাদ্দ দেওয়া খাতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সমন্বয় কমিটি গঠনের দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘বাজেটের অগ্রাধিকার খাতের বরাদ্দ পর্যাপ্ত হয়নি। হয়তো সেই বরাদ্দ পর্যাপ্ত করার জন্য থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে থোক বরাদ্দের ব্যাপারে যথার্থতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ সংক্রান্ত একটি মনিটরিং টিম বা সমন্বয় কমিটি গঠন করলে তারা বিষয়গুলো মনিটর করতে পারবে।’ সোমবার (২৯ জুন) সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া থোক বরাদ্দ দিলে সাধারণত অ্যাডহক বেসিসে যখন যেখানে দরকার তখন সেখানে খরচ করার একটি প্রবণতা থাকে মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেন, ‘কত দরকার, কী দরকার সেটা কে নির্ধারণ করবে? এগুলোর ব্যাপারে সঠিক নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় না। ঢামেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের খরচ ২০ কোটির মতো হয়েছে। খাবার খরচই হয়েছে প্রায় অর্ধেক। কতটুকু প্রয়োজন ছিল, কতটুকু অপচয় হয়েছে, কতটুকু দুর্নীতি হয়েছে– এখন পর্যন্ত জানি না।’

বাজেট প্রস্তাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখার সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ শুল্ক আয় বৃদ্ধির বড় ধরনের একটি পদক্ষেপ, আমরা মনে করছি ডেসপারেট মুভ। প্রায় সব মহল থেকে প্রতিবাদ আসছে। বেশির ভাগ মানুষ মনে করে, এটাতে শুধু সুনাগরিকদের আইন ও নীতির প্রতি আনুগত্যকে নিরুৎসাহিত করা হবে না, এই সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে। প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির সঙ্গে যা সাংঘর্ষিক। এতে দুর্নীতি দমন কমিশন নামে সংস্থা রাখার যৌক্তিকতা থাকবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ হয়। কারণ, দুর্নীতি দমনের প্রধান সূত্র হলো অবৈধ সম্পদ। ব্যাখ্যাহীন সম্পদ বৈধ হলে শাস্তিযোগ্য দুর্নীতি আর থাকবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন কী কাজ করবে? অতীতে বিভিন্ন সময় নানা শর্তে এই সুযোগ চালু ছিল, এখনও আছে। তবে এত ঢালাওভাবে, শুধু কিছু অর্থের বিনিময়ে সব ধরনের অপকর্ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধতা দেওয়ার সুযোগ কখনও ছিল কিনা সন্দেহ হয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে যেটা দেখা যায়, এতে খুব বেশি লাভ হয় না।’ 

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘বিশাল ঘাটতির’ উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। ঘাটতি কমাতে হলে ব্যয় কমাতে হবে। আয় বাড়াতে হবে। পরিচালন ব্যয় কমানো কঠিন কাজ। তবুও যতটা সম্ভব কৃচ্ছ্রতা সাধনের ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নয়ন ব্যয়ে কিছুটা কাটছাঁট করে করোনা সঙ্কট মোকাবিলায় বাড়তি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। উন্নয়ন ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ণয় করা খুবই কঠিন কাজ। মেগা প্রকল্প সবগুলো চালু রাখা হবে কিনা, কোনটি রাখা হবে, কোনটি স্থগিত রাখা হবে, কোনটি সীমিত রাখা হবে সেটি নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। ইচ্ছা করলেই সব সময় পারবো না। করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য অচল। প্রাক্কলনের চেয়ে অনেক কম রাজস্ব আদায়ের আশঙ্কা রয়েছে। ট্যাক্স কোথা থেকে আসবে। বড় ধরনের ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।’

জিএম কাদের আরও বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগে ব্যয় করবো, পরে আয় করবো। এ কথায় আশ্বস্থ হওয়া খুবই কঠিন। আয় করতে ব্যর্থ হলে নতুন টাকা ছাপিয়ে খরচ মেটানো যায়। যার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নেবে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে এরকম বাড়তি ঋণ যদি নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণত বিশেষজ্ঞদের মতে মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে। অর্থনীতিতে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা কাদের বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা ত্বরান্বিত করার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে সব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোভিড-১৯ চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও দাবি জানান তিনি।

 

/ইএইচএস/এমএএ/

লাইভ

টপ